জামায়াত-এনসিপি জোটে আলোচনায় মমতাজ, মুন্নী, মনিরা, মিতুরা
সিলেটের সময় ডেস্ক :
আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নারী আসনে জামায়াত-এনসিপি কাদের মনোনয়ন দেবে সে বিষয়ে চলছে আলোচনা। কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই শতাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। বিরোধী দলে আছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসন পাবে।
বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পাবে ৩৬টি আসন।
এই জোটে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস পাবে ১৩টি আসন।
জামায়াতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতি শুরু হয়। জামায়াতের মহিলা বিভাগ থেকে ১২ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
সেই তালিকায় শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ, আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী।
নিয়ম অনুযায়ী, জামায়াত ১২টি ও এনসিপি ১টি আসন পেতে যাচ্ছে। তবে এনসিপি আরো একটি আসন চায় জামায়াতের কাছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জোট।
এনসিপি সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে কিছুটা আলোচনা হয়েছিল। এনসিপি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকে সংসদে দেখতে চায়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে আপিল শুরু, নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জোর তৎপরতা চলছে। আজ মনোনয়ন বিক্রি শেষ করেছে দলটি।
শুক্রবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি উদ্বোধনের সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে।’
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান রিজভী। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলার সক্ষমতা।
