সীমান্তে হিন্দু-মুসলিম নয়, মূল টার্গেট বাংলাদেশি : রিজভী
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘ভারত সীমান্তে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বিবেচনা করে নয়, তাদের টার্গেট বাংলাদেশি মানুষ। ওরা ফেলানীকে যেভাবে ঝুলিয়েছে, সেভাবে স্বর্ণাকেও মেরেছে। শান্তিপূর্ণ সীমান্ত তৈরির আহবান জানালেও ভারত শোনেনি।
রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। ফেলানীর কথা এখনো মানুষ ভোলেনি। কিন্তু সরকার কোনো প্রতিবাদ করেনি।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হিন্দু কেহ আহত বা নিহত হলে সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও প্রতিবেশী দেশ হিন্দুর ওপর আক্রমণ বলে প্রচার করে। হাসিনার পতনের পর ভারত আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘৫ আগস্টের বিপ্লবের পর ড. ইউনূসের সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। কিন্তু সীমান্ত হত্যার বিষয়ে আপনারা নির্লিপ্ত কেন? উদাসীন কেন? কিশোরীকে হত্যার বিষয়ে কোনো কথা নেই কেন? এ প্রশ্ন দেশের মানুষের মুখে মুখে।’
তিনি বলেন, ‘লুটপাটের সরকারের দোসরদের বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। ওরা আপনাদের সফল হতে দেবে না। ওরা নানা চক্রান্ত করে যাচ্ছে। সরকার ব্যর্থ হলে শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে।’
রিজভী অভিযোগ করেন, ‘খালেদা জিয়াকে বারবার দেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পারেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি।’
সধী সমাবেশ শেষে তিনি বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী স্বর্ণা দাসের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
আমরা বিএনপি পরিবার কর্তৃক আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শরিফুল হক সাজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন- সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আলমগীর কবির, আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন।
