তৃতীয় দফা বন্যার কবলে সুনামগঞ্জ, দুর্ভোগে নিম্নাঞ্চলের মানুষ

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে আবারো সুনামগঞ্জে যাদুকাটা, সুরমাসহ সকল নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শুক্রবার সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিকালে ৭ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

এদিকে, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও জেলার জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা সফিউল আলম বলেন,পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বসতবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে।

এছাড়া নূরানী ডিজিটাল মাদরাসাটি পানিতে তলিয়ে গেছে। এক মাসের মধ্যে তিনবার বন্যা, বলার ভাষা নাই। খুবই কষ্টে আছি। 

খরচার হাওর পাড়ের বাসিন্দা ডালিম মিয়া জানান, গত তিনদিন ধরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।

হাওরের ঢেউয়ে বসতবাড়ি ভাঙা শুরু হয়েছে। পানি বাড়লে, আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হবে। 

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা জামিল আহমেদ জানান, জেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়কে পানি। যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে। নৌকা দিয়ে এখন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ভারত ও সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জানান, বন্যা মোকাবিলা করার জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া আছে। এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে কেউ আসেনি। পানি আরো বাড়লে, পরিস্থিতি অবনতি হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য