সুন্দরবন ভ্রমণে যৌন নিপীড়নের শিকার জাবির নারী শিক্ষার্থীরা
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানি শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তাদের এক সহপাঠী। এ সময় এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে মামলার পর অভিযান চালিয়ে সুজন মোড়লকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়। পরে অপর আসামি হুমায়ুন কবীর ওরফে কবীর ফরাজীকেও (৫৭) গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও তার স্বামীসহ কয়েকজনের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণে যান। রোববার বিকালে তারা মোংলা থেকে মাহেন্দ্রযোগে ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়ে পৌঁছান। সন্ধ্যায় খাবার খেয়ে যশোর যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রো গাড়ি ভাড়া করেন তারা।
এজাহারে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীর কাছে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় বিকাশ থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি তার রুমমেটকে সঙ্গে নিয়ে কাটাখালী মোড়ের পুলিশ বক্সের পাশে দিগন্ত পরিবহণের সামনে যান। সেখানে হুমায়ুন কবীর তাকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন এবং পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি হাতে জুতা নিয়ে তাকে ভয় দেখান। এ সময় সুজন মোড়লও তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা অন্য সহপাঠীদের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ব্যক্তির কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তখন আসামিরা তাদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে হুমায়ুন কবীর এক ছাত্রীর নাকে সজোরে ঘুসি মেরে জখম ও অপর এক ছাত্রীর স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে আহত করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সুজন মোড়ল ওই নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন এবং চারুকলায় পড়া এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের হুমকি দেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তাদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী জাবির নারী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় হুমায়ুন কবীর ওরফে কবীর ফরাজী ও সুজন মোড়লের বিরুদ্ধে রোববার রাত ১০টার দিকে মামলা করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ ২ আসামিকে গ্রেফতার করে।
ফকিরহাট মডেল থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার পর রাতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
