ফেসবুকে ছেলেধরা ‘গুজব’, সিলেটে উদ্বেগ

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

 

ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে  সিলেটে ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। গত ১৫ দিনে  সিলেটের কয়েকজন শিশু-কিশোর নিখোঁজের ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে একজন ছাড়া বাকিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তবে এ নিখোঁজের সঙ্গে কোনো ছেলেধরা চক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে জানা যায়নি। তারা কেউ পরিবারের অভিমান করে আর কেউ পড়ালেখার ভয়ে নিজে থেকেই নিখোঁজ হয়েছিলো। তাদের উদ্ধারের পর পুলিশ ও পরিবারিরক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফেসবুকে গুজব ছড়ানো বৃদ্ধি পেয়েছে  সিলেটের গোলাপগঞ্জে রবিবার (৭ জুলাই) ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায়। উপজেলার ভাদেশ্বরে ছেলেধরা আতঙ্কে প্রতিবন্ধী এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। এসময় ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করা হলে তা মুহুর্তে ভাইরাল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত অনেকেই ‘শিশুকে ধরে বস্তায় ভরার সময় হাতেনাতে ধরেছেন জনতা’ এবং ‘বাচ্চাদের ধরে জীবিত চিবিয়ে খেয়ে ফেলা হয়’ এমন কথা লিখেও ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেন। যদিও এমন কোনো ঘটনা গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বরে ঘটেনি বলেছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়,  সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিরশ্রী গ্রামের ইউছুফ আলীর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে আব্দুল মজিদ (২৫) রবিবার বিকেলে গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামে আনমনে ঘুর-ঘুর করছিলেন। এসময় আতঙ্ক থেকে তাকে ছেলেধরা সন্দেহে আটক করে স্থানীয় জনতা ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। একপর্যায়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও মারপিট করলে সে অগোছালোভাবে নানা কথা বলে। মারধরের পর এক পর্যায়ের স্থানীয়রা তাকে জোর করে ছেলেধরা শিকার করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে থানাপুলিশ গিয়ে মজিদকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাছুদুল আমিন সোমবার (৮ জুলাই) বিকালে সিলেটভিউ-কে বলেন- ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। শুধু আতঙ্ক থেকে সন্দেহবশতঃ একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে এভাবে মারধর করা কিছুতেই ঠিক হয়নি। খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে  তাকে উদ্ধার করে। আজ (সোমবার) দুপুরে পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার পরিবার কোনো আইনি সহায়তা চাইলে আমরা দিতে প্রস্তুত আছি।

মজিদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি বলেন- ওই যুবক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে প্রায় সময় ঘরের মানুষকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যায়। কয়েকদিন পর ফের বাড়িতে ফিরে আসে। এভাবে দুদিন আগেও সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি। পরে ফেসবুকে ভিডিও দেখে মজিদের পরিবারের লোকেরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আজ তাকে বাড়ি নিয়ে যান।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. মাছুদুল আমিন সিলেটভিউ-কে বলেন- গত ১০-১২ দিনে গোলাপগঞ্জ থানায় ৪ শিশু-কিশোর নিখোঁজের মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে তিনজনকেই পাওয়া গেছে, একজন এখনো নিখোঁজ। তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া তিনজন জানিয়েছে- বাড়ির লোকের সঙ্গে অভিমান করে ও পড়ালেখার ভয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছিলো। কোনো চক্র তাদের ধরে নেয়নি।

এছাড়া  সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জের ৩ কিশোর নিখোঁজ হয় গত সপ্তাহে। তবে দুজনকেই নিখোঁজের দিন এবং অপরজনকে পরদিন খুঁজে পাওয়া যায়। পরে তারা জানান- কোনো ছেলেধরা চক্র তাদের ধরে নিয়ে যায়নি। পড়ালেখার ভয়ে তারা পালিয়েছিলো।

এদিকে, মজিদকে আটক করে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও রবিবার রাতে ফেসবুকে  ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার দিনভর  সিলেটের অনেকে সে ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট বা শেয়ার করে আতঙ্ক ছড়ান। অনেকেই ফেসবুকে লেখেন- ‘শিশুকে ধরে বস্তায় ভরার সময় মজিদকে হাতেনাতে ধরেছেন জনতা’ এবং ‘বাচ্চাদের ধরে জীবিত চিবিয়ে খেলা ফেলা হয়’। তবে এমন তথ্য সত্য নয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) শাহ মিজান শাফিউর রহমান, (বিপিএম-বার, পিপিএম) সিলেটভিউ-কে বলেন- ফেসবুকে গুজব ছড়ানো রোধে পুলিশের টিম কাজ করছে। চিহ্নিত হলে গুজব ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেটবাসীকে গুজবে কান না দেওয়া এবং আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন- সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে  সিলেট বিভাগের পুলিশ সার্বিক প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও কোনো অসংগতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ কিংবা নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এ বিভাগের অন্যান্য