আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ মোসা. শান্তা বেগম হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা ইউনিট। গ্রেপ্তার সাইফুলআদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদর উপজেলার চরলক্ষীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তিনি দুই সন্তানের জননী।

জানা গেছে, গত ২১ জুলাই দুপুরে শান্তা বেগম ও তার তৃতীয় স্বামী পরিচয় দেওয়া মো. সাইফুল ইসলাম (৩৮) গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার ‘আনোয়ারা ম্যানশন’ ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। ওই রাতেই হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ কক্ষটি থেকে শান্তার গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পর দিন মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হলে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই গাজীপুর জেলা। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে শুরু হয় নিবিড় তদন্ত।

পিবিআই জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মাত্র এক দিনের মাথায় ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুল ইসলামের সঙ্গে শান্তা বেগমের দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে অতীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার ব্যাগে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। পরে বুকে আরও আঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যুর পর নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন টিম এবং পৃথক ছায়া তদন্ত টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য