মির্জাপুরে স্বামী-স্ত্রী-সন্তানকে মারধরের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
সিলেটের সময় ডেস্ক :
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও আট বছর বয়সি এক শিশুকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত বিভাষ সরকার নুপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার একটি লাঠি হাতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীর উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এ সময় ওই নারী প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে ওই নারী এগিয়ে এসে মারধর থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও পেটাতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামে বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিভাষ সরকারের বাড়িও একই গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তার চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার।
এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং তাদের মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়। রাস্তা নির্মাণের কথা বলে সরকারি রাস্তার পাশের কয়েকটি গাছও কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাসন্তী রানী বলেন, চেয়ারম্যান রাস্তার কথা বলে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর ও গালিগালাজ করেন। আমার আট বছরের ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভাষ সরকারের ভয়ে এলাকায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি লোকজনকে ডেকে এনে মারধর করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার। তিনি বলেন, ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।
মহেড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজ হাতে শিশু ও নারীসহ তিনজনকে পিটিয়েছেন বলে শুনেছি এবং ফেসবুকে ভিডিও দেখেছি। তিনি যে কাজটি করেছেন, সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
