এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স
শেষ ৩২-এর ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে যে বিষাদের গল্প উপহার দিয়েছিল, ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ফ্রান্সের বিপক্ষেও ঠিক একই ছক কষে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিতে ডিফেন্সে রীতিমতো ‘বাস পার্ক’ করে ৫-৪-১ ফর্মেশন সাজিয়েছিলেন লাতিন দলটির কোচ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র সুবিধা করতে পারেনি এমবাপ্পে ব্রিগেড।
এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন বন্ধ্যাত্বের মুখে পড়েছিল তারা। প্রথমার্ধে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের করা ২০টি ক্রসের একটিও প্রতিপক্ষের বক্সে বিপদ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৩১ মিনিটে এমবাপ্পের হেড মিস আর ওসমানের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশায় পুড়তে হয় দেশমকে।
বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। প্রথমে মাইক মাইনানের লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান এমবাপ্পে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেই কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের শট কাঁপায় পাশের জাল। এর দুই মিনিট পর কোনের এক দূরপাল্লার রকেট গতির শট লাফিয়ে উঠে জালের ওপর দিয়ে পার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।
তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে বাধ্য হন। ৭০ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ও নিচু শটে ফ্রান্সকে উল্লাসে ভাসান কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (২০ গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ১৯ গোল করা এমবাপ্পে।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া প্যারাগুয়ের মাউরিসিওর এক নিচু শট দুর্দান্ত ডাইভে রুখে দেন ফরাসি প্রাচীর মাইক মাইনান। ওদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপ্পের পরপর দুটি বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের লিড ধরে রেখেই কোয়ার্টারে গেল ফ্রান্স।
