সিলেটে নিখোঁজ ‘নেপালি’ ব্যক্তি : পুলিশ পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক!
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সিলেটে থেকে পাপলু প্রধান (৫৬) নামের এক নেপালি সম্প্রদায়ের ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনেও সন্ধ্যান মিলেনি। গত শনিবার (৬ জুলাই) বিকালে তিনি নিখোঁজ হন। পাপলু মহানগরের শিবগঞ্জ এলাকার খরাদিপাড়া আনন্দ ৩৫/১ এর বাসিন্দা গৌরিমান প্রধানের ছেলে। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেট শাহপরাণ থানায় জিডি করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ পরিচয়ে একটি চক্র তার সন্ধ্যান পেয়েছে জানিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিখোঁজ পাপলু প্রধানের ছেলে প্রীতম প্রধান।
তিনি সিলেটভিউকে জানান, ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার পূর্ব হাতিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে আমাদের জানায় যে- আমার বাবাকে পাওয়া গেছে। তার অবস্থা বেশ ভালো না। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার এখন রক্ত প্রয়োজন। চিকিৎসাবাবদ আপনারা কিছু টাকা পাঠান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দুই দফায় ৮ হাজার টাকা নগদ-এর মাধ্যমে পাঠিয়েছি। কিন্তু পরে যে নাম্বারগুলো বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এটি একটি প্রতারণা ছিলো আমাদের সঙ্গে।
এদিকে এসআই পরিচয়ে যে নাম্বার থেকে ফোন এসেছিলো সেই নাম্বারটি (০১৭১৮-২১৮০৫৬) ট্রুকলারের মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির নাম ইমরান আহমদ বলে জানা গেছে।
এর আগে গত শনিবার তিনি ব্যবসায়ীক কাজে মহানগরের সোবহানীঘাস্থ কাঁচাবাজারে যাওয়ার জন্য শনিবার বিকালে বাসা থেকে বের হন। কিন্তু তিনি রাতে আর ঘরে ফেরেননি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজে না পেয়ে শাহপরাণ থানায় জিডি করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পাপলু প্রধানের সঙ্গে ব্যবসার অর্ধলক্ষাধিক টাকা ছিলো। তিনি সহজ-সরল প্রকৃতির লোক। কোনো চক্রের কবলে পড়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা
কেউ তার খোঁজ পেলে 01674 861001 ও 01641 248140 (ছেলে) এই দুই মোবাইল ফোন নাম্বারে অথবা শাহপরাণ থানাপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন- ওই ব্যক্তি নিখোঁজের জিডি হওয়ার পর থেকে তাকে উদ্ধারে প্রযুক্তির সহায়তায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। চক্রের টাকা হাতিয়ে নেওয়া নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
