গঙ্গাচড়ায় রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে নতুন এলাকা প্লাবিত, প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় ২০ দিনের টানা বর্ষণ আর উজানের ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে নিমাঞ্চলসহ চরাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ফের তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাসানটারী হয়ে ভাংগাগড়ার পাকা রাস্তার প্রায় ৫০ ফিট রাস্তা ভেঙে যায়।

রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় নতুন এলাকায় প্রবেশ করছে পানি। আবার শেখপাড়া ব্রিজ ভেঙে পানি প্রবেশ করে ফসলি জমি ডুবে গেছে। রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় তিন থেকে চার গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়েছে। 

পানির স্রোতে আব্দুর রশিদ নামের একজনের বাড়ি ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, শনিবার রাতে পানির আঘাতে পাকা রাস্তাটি ভেঙে যায়। এখানকার প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। 

তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে গঙ্গাচড়ায় মর্নেয়া ইউনিয়নের আলফাজটারী, হাসানটারী, আনছারেরটারী, তালপট্টি, নরশিং, আলমারবাজার, শেখপাড়া, নিলারপাড়, আলশিয়ারমোড়, ভাংগাগড়া, লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, পশ্চিম ইচলি, পুর্ব ইচলী, বাগেরহাট, কেল্লারপাড়, চল্লিশাল, জয়রামওজা, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা, চিলাখালচর, মটুকপুরচর, নোহালী ইউনিয়নের মিনারবাজার, নোহালীচর, বৈরাতী, গজঘণ্টা ইউনিয়নের আলালচর, ছালাপাকচর, গাওছোয়াসহ চরাঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি হয়েছে।

পানিবন্দি মানুষগুলো উঁচু জায়গা, রাস্তার ওপরে পলিথিন টাঙিয়ে গরু-ছাগল ও জিনিসপত্র নিয়ে কোনোরকমে আছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। ভেঙে যাচ্ছে ফসলি জমি ও গাছপালা। ভেসে গেছে পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের মাছ। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে চাষকৃত বিভিন্ন ফসল। 

পানিবন্দি ও ভাঙনকবলিত ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানগণ জানান, এলাকা ঘুরে ঘুরে ভাঙন ও পানিবন্দি মানুষের খোঁজ খবর নিয়ে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন।

 

এদিকে রাস্তা ও ব্রিজ ভাঙনের সংবাদ পেয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যাওয়া রাস্তা সংস্কার করা হবে। ১৫০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন রংপুর জেলা প্রশাসক।

এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য