গাজার শুজাইয়ায় চতুর্থ দিনের মতো লড়াই চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

গাজা সিটির শুজাইয়া জেলায় রবিবার চতুর্থ দিনের মতো ভারী যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ চলছে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হামাস ও ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘মাটির ওপরে ও নিচে’ সুড়ঙ্গগুলোতে লড়াই করছে। এর কয়েক মাস আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে হামাসের কমান্ড কাঠামো ধ্বংসের ঘোষণা করেছিল।

 

সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ‘বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে, অস্ত্র খুঁজে পেয়েছে এবং ফাঁদযুক্ত যুদ্ধ কম্পাউন্ডগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে’। সেই সঙ্গে বিমানবাহিনী যোদ্ধাদের ‘ডজন খানেক’ অবকাঠামোগত স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এ ছাড়াও তারা মধ্য গাজা ও দক্ষিণ রাফা এলাকায় সংঘর্ষের কথা জানিয়েছে। রাফাতে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ভোরে বিমান হামলায় আরো ছয়জন নিহত হয়েছে বলে নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাফা শহরের দক্ষিণেও কামানের গোলাবর্ষণ হয়েছে।
 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করেছিলেন, ৭ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধের ‘তীব্র পর্যায়’ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। তার ঘোষণার পরই নতুন করে এই অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএর অনুমান, বৃহস্পতিবার নতুন যুদ্ধ শুরু এবং সেনাবাহিনী মানুষকে সরে যাওয়ার আদেশ জারির পর থেকে শুজাইয়ার ‘৬০ থেকে ৮০ হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে’।

 

এদিকে গাজা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি নিয়ে মাসব্যাপী অনিয়মিত আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। হামাস শনিবার বলেছে, মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থাপিত সংশোধিত পরিকল্পনায় ‘নতুন কিছু নেই’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মাসের শেষের দিকে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির রুপরেখা দিয়েছিলেন, যেখানে ইসরায়েলে বন্দি ফিলিস্তিনি ও কিছু ইসরায়েলি জিম্মি বিনিময়ের কথা রয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে প্রস্তাবিত চুক্তির অংশগুলোর জন্য ‘সংশোধনী’ উপস্থাপন করেছে।

তবে লেবাননে হামাসের কর্মকর্তা ওসামা হামদান নিশ্চিত করেছেন, ইসলামি আন্দোলন সর্বশেষ প্রস্তাব পেয়ে বলেছে, এটি ‘আগ্রাসন বন্ধের জন্য আলোচনায় কোনো বাস্তব অগ্রগতি’ উপস্থাপন করেনি।

হামদান এই প্রস্তাবগুলোকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যার উদ্দেশ্য ‘গণহত্যা অনুশীলনের জন্য দখলদারদের (ইসরায়েল) অতিরিক্ত সময় দেওয়া’। 

দক্ষিণ ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই হামলায় এক হাজার ১৯৫ জন নিহত হয়েছিল। সেই সঙ্গে যোদ্ধারা ২৫১ জনকে জিম্মি নিয়ে যায়। এদের মধ্যে ১১৬ জন এখনো গাজায় রয়ে গেছে। তবে সেনাবাহিনী ৪২ জন জিম্মির মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক আক্রমণে কমপক্ষে ৩৭ হাজার ৮৭৭ জন নিহত হয়েছে। দুই পক্ষের নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

এদিকে গাজায় সংঘর্ষের কারণে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তেও উত্তেজনা বেড়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী অক্টোবর থেকে হিজবুল্লাহ আন্দোলনের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। হিজবুল্লাহ ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ। এই গোষ্ঠীতে ইরাকের যোদ্ধা ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও অন্তর্ভুক্ত।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই মাসে বলেছে, লেবাননে আক্রমণের জন্য তাদের পরিকল্পনা ‘অনুমোদিত ও বৈধ’ করা হয়েছে। এরপর হিজবুল্লাহ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলে, পূর্ণাঙ্গ সংঘাত হলে ইসরায়েলের কোনো অংশকেই রেহাই দেওয়া হবে না। জাতিসংঘে ইরানের মিশন শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছে, তেহরান ‘লেবাননে আক্রমণ করার ইচ্ছা সম্পর্কে ইহুদিবাদী শাসকের প্রচারণাকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে মনে করে’। সেই সঙ্গে চিরশত্রু ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, ‘ইসরায়েল যদি পূর্ণ মাত্রায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে, তাহলে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু হবে। এতে সব বিকল্প, সব প্রতিরোধ ফ্রন্টের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততা থাকবে।’

সূত্র : এএফপি

এ বিভাগের অন্যান্য