ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার উপায় জানালেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

মস্কো তখনই ইউক্রেনে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসন বন্ধ করবে, যখন কিয়েভ কার্যকরভাবে পূর্ব ও দক্ষিণ থেকে সেনা সরিয়ে আত্মসমর্পণ করে এবং ন্যাটোর সদস্য পদ পাওয়ার প্রচেষ্টা পরিহার করে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার এ কথা বলেছেন। অন্যদিকে ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে পুতিনের এই কঠোর ‘শর্তগুলো’ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউক্রেন শান্তি সম্মেলনের জন্য সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৯০টি দেশ ও সংস্থার রাষ্ট্রপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একত্রিত হওয়ার এক দিন আগে পুতিনের এ মন্তব্য এলো।

এই শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পুতিন শুক্রবার এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
 

মস্কোতে রুশ কূটনীতিকদের উদ্দেশে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পুতিন বলেন, ‘দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের সেনাদের সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

’ রাশিয়া এ চারটি অঞ্চলের কোনোটির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে এগুলো সংযুক্ত করার দাবি করে। তখেরসন ও জাপোরিঝিয়ার আঞ্চলিক রাজধানী এখনো ইউক্রেনের হাতে রয়েছে। 

পুতিন বলেন, ‘যখন কিয়েভ বলবে, এগুলো করতে তারা প্রস্তুত এবং সত্যিই সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করবে, আমরা অবিলম্বে, আক্ষরিক অর্থে সেই মিনিটেই, যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা শুরু করব।’

ইউক্রেনে চালানো আগ্রাসনকে রাশিয়া ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।

মস্কো বারবার বলেছে, এ অভিযানে তাদের লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণরূপে অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে। পুতিন শুক্রবারও বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, আমাদের নীতিগত অবস্থান নিম্নরূপ : ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা, জোটনিরপেক্ষতা, অপারমাণবিক অবস্থা, নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসি মতাদর্শ থেকে মুক্তি।’ 

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, ‘এতে (পুতিনের শর্তে) কোনো নতুনত্ব নেই, কোনো সত্যিকারের শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধ শেষ করার কোনো ইচ্ছা নেই’। সামাজিক যোগাযগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পুতিনের দাবিকে একটি ‘সম্পূর্ণ ছলনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়া সম্পূর্ণরূপে তাদের দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেই কেবল শান্তির দেখা মিলবে।

তাদের মতে, মস্কোর শর্তে যুদ্ধে কোনো বিরতি কেবলমাত্র রাশিয়াকে আরেকটি আক্রমণের জন্য পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে, যার লক্ষ্য পুরো দেশ দখল করা।
 

অন্যদিকে সামরিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, আক্রমণে রাশিয়ার মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে ইউক্রেনের দক্ষিণ উপকূল বরাবর রাশিয়া ও ক্রিমীয় উপদ্বীপের মধ্যে ‘স্থল সেতু’ তৈরি করা।

এ বিভাগের অন্যান্য