বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার উত্তর কালনির গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাস বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। আর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃতরা হল, উত্তর কালনিচরম গ্রামের মৃত সোনাই মিয়ার ছেলে আলা মিয়া (৪৫), একই গ্রামের ইয়াদ উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম (২৫), সুরুজ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৪৫), মৃত বিরাম উদ্দিনের ছেলে নিজাম উদ্দিন (২৮), ইছকন্দর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), শওকত মিয়ার স্ত্রী লাভলী বেগম (২৮) ও মোবারক হোসেন মেন্দির স্ত্রী হেনা বেগম (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাস, এসআই আফসার আহমদ ও এসআই অনিকের নেতৃত্বে জগন্নাথপুর থানার একদল পুলিশ মোটরসাইকেল পুড়ানোর মামলার ওয়ারেন্টের আসামী উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর কালনিচর গ্রামের আছদ্দর আলীর ছেলে ইউপি সদস্য শওকত মিয়ার ছোট ভাই সাবজুল মিয়া (২৭)কে উত্তর কালনির গ্রাম থেকে অভিযান চালিয়ে আটক করে।

এ খবর পেয়ে ইউপি সদস্য শওকত মিয়ার নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০জন ব্যক্তি সংঙ্গবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেয়। এসময় পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এসআই আফসার আহমদ, এসআই অনুজ কুমার দাস ও এসআই অনিক দেবসহ পাঁচ পুলিশ আহত হন। এর মধ্যে এসআই আফছর আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হামলার খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মাহবুবুল হাসান চৌধুরী ও জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদেরকে উদ্ধার করেন। ওই সময় গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়।

মামলার বাদী জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাস মামলার জানান, মোটরসাইকেল জ্বালানোর মামলার ওয়ারেন্টের আসামী সাবজুল মিয়াকে আটক করে আমরা যখন তাকে গাড়িতে তুলি তখনই আসামীর ভাই ইউপি সদস্য শওকত মিয়ার নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের উগ্র জনতা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া পরিহিত আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শওকত মিয়া বলেন, আমার ভাই সাবজুলকে আটক করে গাড়িতে তুলে ব্যাপক মারধর করে পুলিশ। এসময় সে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায়। হামলার সময় সেখানে আমি ছিলাম না। পরে এলাকায় এসে শুনেছি পুলিশের ওপর গ্রামের লোকজন হামলা করেছেন।

আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইমানি বলেন, শুনেছি পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধরে ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা শওকত মিয়া ও একই এলাকার যুবলীগ নেতা দুলাল মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে পূর্ব বিরোধ চলছিল। এনিয়ে মামলা মোকদ্দমাও রয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এসময় হামলাকারীদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এতে জড়িত থাকায় সাতজনকে আটক করে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মাহবুবুল হাসান চৌধুরী বলেন, মামলার অপরাপর আসামীসহ পুলিশের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া আসামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।