নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত ট্রাম্প, তবুও ‘ইতিবাচক’ বৈঠকের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত দু’নেতার বৈঠককে উভয় পক্ষই ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে

যদিও বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতির অনুমতি ছিল না এবং ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রথম সরাসরি বৈঠক।

বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন।

নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমাকে ‘বিবি’র বলার দরকার নেই। তিনি এটা বলছেন কারণ তিনি চান আমি যেন এই বিষয়ে যুক্ত থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, “আমাকে সরাসরি বললেই হতো, সারা বিশ্বের সামনে ঘোষণা দেওয়ার কী দরকার ছিল?” পিকঅ্যাক্সে কী হচ্ছে, আমি ঠিকই জানি। এটা খুব বড় কোনো সমস্যা নয়।’

এরপর নেতানিয়াহু ওভাল অফিসে পৌঁছান। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। তবে পুরো বৈঠকই ছিল সংবাদমাধ্যমের জন্য বন্ধ এবং কোনো প্রশ্নোত্তরের সুযোগ রাখা হয়নি।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু বৈঠকের প্রশংসা করে এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সেরা আলোচনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও ট্রাম্প বৈঠক সম্পর্কে নিজে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

এমন সময় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে।

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। ওই সমঝোতার ফলে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা হয়েছিল। তবে নেতানিয়াহুর সরকার শুরু থেকেই ওই চুক্তির বিরোধিতা করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

মার্কিন গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে নেতানিয়াহু বারবার ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের কিছু নীতির সমালোচনা করলেও ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি স্বীকার করলেও সেটিকে সীমিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সামান্য কিছু মতভেদ আছে, তবে আমরা মোটামুটি একই অবস্থানে আছি।’

এ সময় তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েলের আপত্তিও উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দেশের প্রতি খুবই উদার। অথচ আমাদের সমর্থন ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারত না। আর জানেন কে আমাদের ছাড়া টিকে থাকতে পারবে না? ইসরায়েল।’

বৈঠকে ইরান ছাড়াও ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য