ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার বেবিচকের সাবেক কর্মকর্তার ৫ বছর কারাদণ্ড

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

ঘুষ গ্রহণের সময় গ্রেপ্তার বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট এইচ এম রাশেদ সরকারের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির ৫ বছর দণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। যা অনাদায়ে তার আরও ৬ মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ডের টাকা অভিযোগকারীকে দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে জামিনে থাকা আসামি রাশেদ সরকার আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রাকিব হাসান বেবিচকের সিপিএল লাইসেন্স প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ধাপ ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ হন। সিপিএল লাইসেন্স পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষার ফি বাবদ ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন। রাশেদ সরকার বেবিচক, কুর্মিটোলা ঢাকার জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট হিসেবে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে ২৭ নভেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর ওই আবেদন বাতিল করেন। রাকিব হাসানকে ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে রাকিবের কাছে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

অনৈতিক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে দাবি করা ১ লাখ টাকা ৬ ডিসেম্বর উত্তরার ১৩ নং সেক্টরে বিএফসিতে গিয়ে দিয়ে আসেন। দুদকের ফাঁদ টিমের সদস্যরা রাশেদকে চ্যালেঞ্জ করলে রাকিব হাসানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন রাশেদ। পরে তাকে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করে দুদক।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালাম ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য