রাঙামাটিতে ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস, ব্যবসায়ী নিখোঁজ-বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

রাঙামাটিতে অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক এবং কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে। এতে সড়কের ওপর বিশাল মাটির স্তুপ জমা হলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি সরানোর কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টা চেষ্টার পর সড়কের এক পাশ দিয়ে হালকা ও ছোট যানবাহন চলাচল শুরু হয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্তসেখানে মাটি সরানোর কাজ চলছিল।

এ ছাড়া কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের মতিপাড়া এলাকায় চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাতের কোনো একসময় মতিপাড়া এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। সকাল থেকে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ধসের খবর পেয়ে আমাদের সড়ক বিভাগের একটি টিম রাজস্থলী ও চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কের উদ্দেশে রওনা দেয়। হঠাৎ আবার সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে আমাদের টিম কাজ করে প্রায় ১ ঘণ্টা পর সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করছে। সবকটি স্পটেই মাটি সরিয়ে রাস্তা পুরোপুরি সচল করার কাজ চলমান রয়েছে।’

এদিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি- মারিশ্যা- দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

জেলার ১২৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনার তথ্য জানিয়েছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন। এর মধ্যে কাপ্তাইয়ে ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩২টি, কাউখালীতে ৩০টি, নানিয়ারচরে ২টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ৩৭টি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাঙামাটিতে বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

নিখোঁজের ২ দিন পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, বিলাইছড়িতে ব্যবসায়ী নিখোঁজ 

এদিকে রাঙামাটি সদর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাওয়ার দুই দিন পর দলমনি চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের মধ্যে নিখোঁজ হয়েছেন এক মুদি ব্যবসায়ী।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাঙামাটি সদর উপজেলার মঘবান ইউনিয়নের ডুলুছড়ি এলাকায় একটি পাহাড়ি ছড়া পার হওয়ার সময় স্রোতে ভেসে যান দলমনি চাকমা। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলের কিছু দূরে ডুলুছড়ি গ্রামের খালে তার লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

মগবান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পুষ্প রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ছড়া পারাপারের সময় স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।’

জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে নিখোঁজ হয়েছেন মো. বদি আলম নামে এক মুদি ব্যবসায়ী। তার স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটায়। তিনি ফারুয়া বাজারে ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাতে রাঙ্গুনিয়া থেকে ফারুয়া বাজারের উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন বদি আলম। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ফারুয়া সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের কাছে তিনি মোটরসাইকেল থেকে নামেন। ওই সময়ে সড়কের কিছু অংশ বন্যার পানিতে ডুবে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বদি আলম বাজারে তার দোকানে না পৌঁছালে পরিবারের লোকজন খোঁজখবর শুরু করেন। তার ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশপাশের এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী নিখোঁজের বিষয়টি জানা গেছে। উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

মীর হেলাল ও দীপেন দেওয়ানের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা দুর্গত মানুষের খোজ নিয়েছে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। গতকাল বুধবার রাতে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্গদ মানুষের মাঝে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে রাঙামাটি পৌঁছে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের খোজ নিতে বেশকিছু আশ্রয় কেন্দ্র পরির্দশন করে দুর্গত মানুষের পাশে দাড়ান অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়িসহ বেশকিছু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে অনেক ফসলী জমি।

এ বিভাগের অন্যান্য