শুধু পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই দাফন হচ্ছে খামেনির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। জানা গেছে, কেবল পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হবে তার দাফন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণার পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসবেন কি না- তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদি তিনি দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তবে সেটিই হবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি ইসরায়েলি হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। ওই হামলার পরই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ৪০ দিনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাফন অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। গত এক সপ্তাহ ধরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ সময় পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তার ভাই মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসাম খামেনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দাবি করা হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত তিনি কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেননি, এমনকি ভিডিও বা অডিও বার্তাও দেননি। সমর্থকদের উদ্দেশে তার সব বার্তাই লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহে ইরানসহ দুই দেশের পাঁচটি শহরে লাখো মানুষ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শোক মিছিলে অংশ নেন। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চলা রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় শোকসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলী খামেনির দাফন-পরবর্তী সময়ই ইরানের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে আসেন কি না এবং তার প্রথম বক্তব্যে কী বার্তা দেন, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। সূত্র: সিএনএন
