সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করার দাবি
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের কমিশন প্রতি ঘনমিটারে বর্তমান ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের ব্যবস্থাও চেয়েছে সংগঠনটি। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
আজ শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নুর। এ সময় সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মাসুদুর রহমান, রেজাউদ্দোউলা, সৈয়দা আক্তার, হুমায়ন কবির, সৈয়দ সাদাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে সরকার সাত দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন সেই অনুপাতে সমন্বয় করেনি। ফলে স্টেশনগুলোর উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বেড়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য নির্দিষ্ট থাকায় সেই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর আরোপ করা মালিকদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এর ফলে সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করা দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, এর আগে ২০১৩ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুতের যেকোনো মূল্যবৃদ্ধি কমিশনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মাত্র ১ টাকা কমিশন বাড়ানো হলেও বাকি ১ টাকা ৯৮ পয়সা দীর্ঘ এক দশকেও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের বর্তমান ও দাবি করা হারের একটি যৌক্তিক হিসাব তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিজনিত ব্যয় সমন্বয়ের জন্য বর্তমান কমিশনের সঙ্গে আরও ২ টাকা ৪৬ পয়সা যোগ করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দেশব্যাপী চলমান মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং যন্ত্রাংশ ও পরিচালন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে অতিরিক্ত আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা সমন্বয় করা জরুরি। সব মিলিয়ে বর্তমান কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করা না হলে এই খাতটিকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন।
স্টেশন মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি ও সংযোগ সড়কের ইজারা ফি, বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়ন ব্যয়, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক গ্যারান্টির কমিশন ও সুদ, মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে বর্তমানে দেশের অনেক সিএনজি স্টেশন চরম লোকসানের মুখে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সরকারি কমিটি ও মন্ত্রণালয় সিএনজি খাতের এসব দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে একাধিক সুপারিশ দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেগুলোর বেশিরভাগই আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পরও বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু বারবার আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকার তাদের এই ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেবে। অন্যথায়, আগামী ১ জুলাই থেকে সিএনজি খাতের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় তারা দেশজুড়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে সিএনজি দেশের বায়ুদূষণ কমাতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী রাখতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে উল্লেখ করে মালিকরা বলেন, এই সম্ভাবনাময় খাতটির টেকসই পরিচালনার স্বার্থে কমিশন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।
