শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের মধ্যে অনশনরত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সরকার এমন নিশ্চয়তা দিলে তিনি অনশন ভাঙতে প্রস্তুত। তবে সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না দিলে অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। আজ বুধবার তিনি এ কথা জানান বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অনশন করছেন ওয়াংচুক। আজ তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তার দাবির কথা জানান।
চিঠিতে ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে ‘দ্ব্যর্থহীন নিশ্চয়তা’ চান তিনি।
ওয়াংচুক জানান, তিনি আবার শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজে ফিরতে চান। তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়ে সরকার নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তার অনশন চলবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।
ওয়াংচুকের অনশন ২২ জুলাই ২৫তম দিনে গড়িয়েছে। এর আগে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। তবে অবস্থানস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরও তিনি দিল্লির একটি হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকার তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই অনশন ভাঙার বিষয়টি নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাকে অনশন চালিয়ে যেতে হবে।
গত সোমবার ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সিজেপির ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ দিল্লির যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। পরে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। আজও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা দুটি আবেদনের শুনানি শুরু করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
