সিলেটে স্বামীর পা ধরেও রেহাই পাননি ফারহানা, তিন মেয়ের সামনেই হত্যাকাণ্ড
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সিলেটের কানাইঘাটে স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার নির্মম ঘটনা পুরো উপজেলাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। তিন কন্যার চোখের সামনেই মাকে কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী সোহেল আহমদ। পরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ফারহানার মেয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যার সময় স্ত্রী ফারহানা বেগম প্রাণভিক্ষা চেয়ে স্বামীর পা ধরেছিলেন। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল ধারালো দা দিয়ে ফারহানার মাথার পেছনে, গালে ও বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালায় পাষাণ্ড স্বামী।
ঘটনার সময় তাদের তিন কন্যা মায়ের ওপর হামলা দেখে এগিয়ে এলে তাদেরকেও হত্যার হুমকি দেন অভিযুক্ত বাবা। শিশুদের চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে সোহেলের বাবা ছুটে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্ত্রীকে হত্যা করে সোহেল নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয় নিহত ফারহানা বেগমের ১২ বছর বয়সী মেয়ে। তার বিবরনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে গভীর নাড়া দিয়েছে।
মানুষের কাছে বাবা মানে পরিবারে ছায়া, আশ্রয় ও নিরাপত্তার প্রতীক। সন্তানের কাছে বাবা হলো ভরসার শেষ ঠিকানা। কিন্তু সেই বাবাই যদি সন্তানের সামনে মায়ের ঘাতক হয়ে ওঠেন, তবে তা শুধু একটি হত্যাকাণ্ডই নয়-একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে ভেঙে পড়ার করুণ নাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ১ম খণ্ড ছিলাইরপাড় গ্রামে সোহেল আহমদের সঙ্গে তার স্ত্রী ফারহানা বেগমের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল ধারালো দা দিয়ে ফারহানাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পর সোহেল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে নিহতের ভাই সেলিম আহমদ বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে কালীনগর বাগরা এলাকা থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের ফারহানা বেগমের সঙ্গে সোহেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফারহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।
স্বজনরা জানান, নির্যাতনের কারণে দুইদিন আগে ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সোমবার তিনি মামার বাড়ি দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে রাতে সোহেল ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গভীর রাতে তাকে হত্যা করা হয়।
