ছাপা বাকি সাড়ে ১৫ কোটি পাঠ্যবই
ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মাস শেষ হতে মাত্র ১৫ দিন বাকি থাকলেও ছাপা বাকি রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি বই। সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বই। এ অবস্থায় মার্চের আগে সব বইয়ের কাজ শেষ হবে না বলে মনে করছেন প্রেস মালিকরা।
এদিকে এনসিটিবি বলছে, সক্ষমতার চেয়ে বেশি কাজ নিয়েছেন কয়েকজন মুদ্রণকারী।
শিক্ষকরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের দেড় মাস চলে গেছে। এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া না গেলে তারা পড়ালেখা করবে কিভাবে? সাধারণত জানুয়ারিতে স্কুলগুলোতে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান থাকে। এসব প্রতিযোগিতাও জানুয়ারির ২০ তারিখের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্কুল-কলেজে এক শিক্ষাবর্ষে সাধারণত ৭৬ দিন ছুটি থাকে। এর সঙ্গে দুই দিন করে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ করলে আরো ১০৪ দিন বন্ধ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই হিসাবে এক বছরে ক্লাস-পরীক্ষা চলে ১৮৫ দিন। আর এই অনুসারেই শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়। এ বছর মার্চের প্রায় শুরু থেকেই রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা। ফলে এপ্রিল মাস ছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এতে এক বছরের সিলেবাস আট মাসে শেষ করতে হবে। শিক্ষকরা এই সময়ে জোর করে পড়া চাপিয়ে দিলেও শিক্ষার্থীরা তা ঠিকমতো আয়ত্তে নিতে পারবে না। এতে আগামী বছর বড় ধরনের শিখন ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রক ও বিপণন সমিতির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনেক দেরি হয়েছে। আমরা গত বছরের শেষ দিকে একসঙ্গে সব ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। আবার বাজারে কাগজ ও বাইন্ডারের সংকট রয়েছে। এর পরও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রেসগুলো এরই মধ্যে ২৬ কোটি বই ছাপিয়ে ফেলেছে। দেশের তিনটি প্রেসে অটোমেটিক বাইন্ডিং ব্যবস্থা আছে। বাকিগুলোতে বই ছাপানোর পর হাতে বাইন্ডিং করা হয়। পর্যাপ্ত বাইন্ডার না থাকায় ২৬ কোটি বইয়ের মধ্যে তিন কোটির বাইন্ডিং বাকি রয়েছে। এ ছাড়া যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হবে না, সেসব বই আমরা পরে ছাপাচ্ছি। এমন বইয়ের সংখ্যা তিন কোটি। সেই হিসাবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ১১ কোটি বই বাকি রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বইয়ের কাজ শেষ করতে।’
