তীব্র গরমে আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি
সিলেটের সময় ডেস্ক :
দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। বাইরে বের হলেই ঘামে ভিজে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। সাময়িক স্বস্তির জন্য অনেকেই দোকান থেকে জুস, কোল্ড ড্রিংকস, ট্যাং বা আইসক্রিম কিনে খান। কিন্তু এই ক্ষণিকের আরামের জন্য শরীরের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না।
চিকিৎসকদের মতে, তীব্র গরমে শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ঘাম ঝরায় এবং রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়। এমন অবস্থায় হঠাৎ বরফ-ঠাণ্ডা পানীয় বা আইসক্রিম গ্রহণ করলে শরীরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গলা ও পাকস্থলীর তাপমাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে রক্তনালি সংকুচিত হয়, যা মাথাব্যথা, বমিভাব এবং হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে।
বাজারে প্রচলিত ট্যাং, ফ্রুটিকা, স্টারশিপসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত পানীয়তে সাধারণত সোডিয়াম বেনজোয়েট (E211), কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভার, অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি, ফসফরিক অ্যাসিড এবং ক্যাফেইন থাকে। এসব উপাদান শরীরে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
হঠাৎ ঠাণ্ডা আইসক্রিম খেলে অনেক সময় ‘ব্রেন ফ্রিজ’ বা তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়। মুখের তালুতে থাকা রক্তনালি সংকুচিত হয়ে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে এই ব্যথা হয়।
অন্যদিকে, একটি ক্যান কোল্ড ড্রিংকসে প্রায় ৩৯ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে, যা রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে।
অনেকে কোল্ড ড্রিংকসকে পানির বিকল্প ভাবলেও বাস্তবে এর চিনি ও ক্যাফেইন শরীর থেকে আরও বেশি পানি বের করে দেয়। ফলে পানিশূন্যতা বাড়ে। গরমে পাকস্থলী এমনিতেই সংবেদনশীল থাকে। এর ওপর ঠাণ্ডা পানীয় পাচকরসকে পাতলা করে দেয়। ফলে বদহজম, গ্যাস ও পেটব্যথা হতে পারে। এছাড়া কোল্ড ড্রিংকসের অ্যাসিড ও চিনি দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে।
ফলে দাঁতে শিরশিরানি ও ক্ষয় বাড়ে। গরমে ঘন ঘন এসব পানীয় গ্রহণ করলে এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। শরীর গরম থাকা অবস্থায় ঠাণ্ডা পানীয় গ্রহণ করলে টনসিলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে টনসিলাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত। যেমন- ডাবের পানি, তোকমা দানার শরবত, লেবু ও পুদিনার শরবত, ঘরে তৈরি লাচ্ছি, শসা এবং তরমুজ। এসব খাবার শরীর ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, ঘন ঘন পানি পান করা, রোদ থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে বরফ-ঠাণ্ডা পানি না খাওয়া এবং অন্তত ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করা। এছাড়া হালকা রঙের সুতি পোশাক পরা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
সত্যিকার অর্থে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে হলে বাইরের প্যাকেটজাত পানীয়ের পরিবর্তে ঘরে তৈরি পানীয় ও প্রাকৃতিক উৎসের খাবার বেছে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, বরফ-ঠাণ্ডা পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে আরও ক্লান্ত ও দুর্বল করে দেয়।
লেখক : নিউট্রিশন ইন্টার্ন
ইবনে সিনা হাসপাতাল
স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক কনটেন্ট বিশেষজ্ঞ এবং
প্রতিষ্ঠাতা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাথওয়েজ
