অপ্রতিরোধ্য ইরান, নজিরবিহীন হামলার পরও অক্ষত তাদের বেশিরভাগ অস্ত্রভাণ্ডার!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রায় পাঁচ সপ্তাহের টানা নজিরবিহীন হামলার পরও ইরানের বেশিরভাগ অস্ত্রভাণ্ডার এখনো অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই সক্ষমতার মাধ্যমেই ইরান এখনো শক্তিশালী প্রতিরোধ বজায় রেখেছে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, যা আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধে আলোচনা চললেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরান এখনো তাদের যুদ্ধ-পূর্ব ড্রোন অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্রের (লঞ্চার) ৬০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়ের মধ্যে ১০০টিরও বেশি লঞ্চার উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো গুহা ও বাংকারে লুকিয়ে রাখা ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান আবারও তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
এছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডিপো ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উদ্ধার করার কাজও চলছে। কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ইরান তাদের যুদ্ধ-পূর্ব অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করতে পারে।
যদিও অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তবুও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের এখনো হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান প্রতিরোধ কৌশল মূলত ভৌগোলিক অবস্থান এবং অসম শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত শুরু হলে ইরান প্রথমেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। কর্মকর্তারা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজগুলো তুলনামূলকভাবে অরক্ষিত।
এদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভও পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীকে কার্যত একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে ইরান সরাসরি বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও এই অবরোধের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সমুদ্রপথনির্ভর, যার দৈনিক মূল্য প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে এই বাণিজ্যের বড় অংশই স্থবির হয়ে পড়েছে।
