বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: ব্রীজের জন্য দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক: বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কটি নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। কুশিয়ারা নদীর পানিতে আক্রান্ত হয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানের মাটি ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ যেন এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নির্মাণাধীন সড়কের মধ্যে হামছাপুর এলাকা থেকে ফাজিলপুর পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ১৫টি স্থানে মাটি ধসে খালে পরিণত হয়েছে।

ধসে পড়া একেকটি স্থানের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫-৩০ ফুট। মাটি ধসে গিয়ে খালে পরিণত হওয়া স্থানগুলো হলো-ফাজিলপুর প্রাইমারি স্কুলের সামন, পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামন, পৈলনপুর, ভাটপাড়া, জালালপুর, হামছাপুর ও বান্দর বাজার এলাকা। ভাঙন স্থানগুলোতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সরজমিনে পরিদর্শনে রাস্তাটির এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরকালে অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে ‘খসরুপুর বাজার জিসি-পৈলনপুর-বালাগঞ্জ জিসি সড়ক’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬০ ভাগ মাটি ভরাট কাজ শেষ করে রাস্তার প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে ইটের কংক্রিটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করেছিল। কিন্তু বিগত ২ বছর ধরে রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তার নির্মাণ কাজের টেন্ডার বাতিল হলে নতুন করে আর টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি।

বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০১৫ সালের ৫ই অক্টোবর টেন্ডারের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পায় ‘মেঘনা স্টাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তায় মাটি ভরাট ও পাকাকরণ প্রকল্পের আওতায় দু’টি প্যাকেজে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্মাণাধীন সড়কে ছোট-বড় ১৮টি কালভার্ট নির্মাণসহ রাস্তার নিচ অংশের প্রস্থ ৫২ ফুট ও উপর ২৪ ফুট প্রস্থ করার নির্দেশনা ছিল। সাড়ে ১৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণে কার্যাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেও সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম সজিব, জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা এসএম লিটন ও পৈলনপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য শিহাব উদ্দিন বলেন, নির্মাণ কাজ শুরুর আগে মাটির রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করেছেন। কিন্তু নির্মাণ শুরু হওয়ার পর জনভোগান্তি আরো বেড়েছে। কাজের শুরু থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলার কারণে পুরো রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজও শেষ হয়নি। রাস্তার বিভিন্ন স্থান ভেঙে যাওয়ায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয়রা চলাচল করছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন জানান, সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলেই উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের উন্নত যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পশ্চিম দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও পূর্ব দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করবে। পাশাপাশি উপজেলার মধ্যে নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় বন্যা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মৎস্য খামার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল অফিসের তদারকি না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেয়া সম্ভব হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এসআরএমজি কিবরিয়া বলেন, নির্মাণ কাজের দুটি প্যাকেজ ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। প্রতি বছর বন্যা আক্রান্ত হওয়ায় রাস্তাটির নির্মাণ কাজ ঠিকছে না তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রকল্প গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। ভাঙন আক্রান্ত স্থানগুলোতে আপাতত চলাচলের উপযোগী করে দেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য