২ কোটি টাকা খোয়া, প্রশ্নের মুখে ওমর সানীর ‘বাজারের লিস্ট’

বিনোদন ডেস্ক ঃ

 

চিত্রনায়ক ওমর সানী প্রায়ই নানা ইস্যুতে ফেসবুকে তার মতামত তুলে ধরেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‌‌‘মানুষ কী খাবে বলে দেন সরকার। খাবারের লিস্ট দিয়ে দেন আমরা কী খাব, আর পারছি না রাষ্ট্র।’

ওই পোস্টে স্পষ্টতই ফুটে ওঠে সাধারণ মানুষ ও এক গৃহকর্তার অসহায়ত্ব। এরপর আজ বৃহস্পতিবার ওই পোস্ট দেওয়ার ১০ দিন পর জানা গেল, বন্ধুকে দুই কোটি টাকা ধার দিয়ে ফেঁসে গেছেন সানী-মৌসুমী দম্পতির একমাত্র ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন। ফেসবুক পোস্টে আজ এ তথ্য জানিয়েছেন ফারদিন ও সানী।

সানীর ছেলের টাকা খোয়ানোর বিষয়টি নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। যার মন্তব্য ঘরে বার বার ঘুরে ফিরে এলো ১৭ সেপ্টেম্বরে করা ওমর সানীর সেই পোস্ট। যেখানে ‘খাবারের লিস্ট’ চেয়েছিলেন সানী। খোয়া যাওয়া টাকার এ বিপুল অঙ্ক ও তার ‘বাজার লিস্ট’ সাংঘর্ষিক বলেও মনে করেন অনেকে।

একজন লিখেছেন, ‘অনেকের প্রশ্ন কত টাকার মালিক হলে তার সন্তান বন্ধুকে ২-৪ কোটি টাকা লোন দিতে পারেন?’ আরেকজন লিখেছেন, ‘২৫/৩০ বছরের ছেলেটার কাছে কত টাকা থাকলে শুধু এক বন্ধুকেই ২ কোটি ধার দিতে পারে। অথচ উনার (সানী) নাকি আবার বাজার করার টাকা নাই।’

এমন সমালোচনার প্রেক্ষিতে ওমর সানী বলেন, ‘কিছু মানুষ থাকবেই যারা পজিটিভ একটা বিষয়কেও নেগেটিভ চোখে দেখবে। তাদের কথা শুনে বা বলে লাভ নেই। আমার ওই স্ট্যাটাসটি ছিল সারাদেশের ১৮ কোটি জনসাধারণের হয়ে। বাজারে গেলে দ্রব্যমূল্যের দাম সবার জন্য যা, আমার জন্যও তা-ই। ওই স্ট্যাটাসের কোথাও কিন্তু আমি আমার পারিবারিক অবস্থার প্রসঙ্গে বলিনি। সবার হয়ে কথাটি বলেছি।’

ফারদিনের আসলে কত টাকা যে চাইলে বন্ধুকে দুই কোটি টাকা ধার দিয়ে দেন—এমন প্রশ্নে ছেলেকে সহজ-সরল বলে দাবি করে সানী বলেন, ‘আমার ছেলে ফারদিন খুব সহজ-সরল। ও না ভেবেই একজনকে এতগুলো টাকা লোন (ধার) দিয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে ভালো একটা সম্পর্ক ছিল। আমরা যেমন চলতে-ফিরতে কারও কাছ থেকে ধার নিই, এভাবেই সে টাকাটা রুম্মানকে দিয়েছিল। এই টাকাটা তো দিনশেষে আমরা বাবা-মায়েদেরই (সানী-মৌসুমী)। কারণ, এখনও ফারদিন আমাদের সঙ্গেই থাকে।’

এ চিত্রনায়ক আরও জানালেন, কোনো টাকাই এখনো ফেরত পাননি ফারদিন। পুরোটাই আত্মসাৎ করেছেন রুম্মান নামের ওই ব্যক্তি।

আজ নিশাত বিন জিয়া রুম্মান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ফারদিন এহসান স্বাধীন। তিনি জানান, তিনি লাভের আশায় চলতি বছর সর্বমোট ২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিশাত বিন জিয়া রুম্মানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তবে এক মাস লাভ দেওয়ার পরই ভোল পাল্টে ফেলেন সেই ব্যক্তি। নানাভাবে ঘুরাতে থাকেন ফারদিনকে।

জানা যায়, ফারদিনের সঙ্গে নিশাত বিন জিয়া রুম্মানের পরিচয় ২০২২ সালে। তারপরই ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়িয়েছেন তারা।

ফারদিন লিখেছেন, ‘নিশাত বিন জিয়া রুম্মান নামের এ ব্যক্তির সঙ্গে আমার পরিচয় ২০২২ সালের মাঝামাঝি দিকে। তিনি নিজেই আমাকে দাওয়াত দেন। তারপর থেকেই চেনা-জানা। বিভিন্ন সময় নিশাত নিজে নিজেই তার একটি আইটি ব্যবসার ব্যাপারে আমাকে ও আমার কিছু বন্ধুদের বলতে থাকেন। পরিচয় হওয়ার চার মাস পর আমাকে এবং আমার কিছু পরিচিত মানুষদের সঙ্গে তার একটু বন্ধুত্ব গভীর হওয়ার পরে কিছু নগদ অর্থ ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে নেওয়া শুরু করেন। যদিও পরে জানা যায়, তার কোম্পানির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দূরের কথা, কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্সই নেই।’

তারসহ প্রায় ৩০-৪০ কোটি টাকা রুম্মান বিদেশে পাচার করেছেন বলেও জোরালো দাবি ফারদিনের। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফারদিন। রুম্মানকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য