শুরুতেই কয়েস লোদীর বাজিমাত
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সিলেটের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। একাধিকবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি তাঁকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরপরই সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একাধিক যুগান্তকারী মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব উপস্থাপন করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের নয়টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিকল্পিত নগরায়ণ, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কয়েকটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তাঁর প্রস্তাবনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশ, আধুনিক নাগরিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রবাসীবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা।
কয়েস লোদী বলেন, “হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজার শুধু সিলেটের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ এখানে আসেন। তাই ধর্মীয় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক মানের সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।”
তিনি মাজারকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার প্রস্তাব দেন। এতে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মসজিদ নির্মাণ, ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অত্যাধুনিক মাদ্রাসা, দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, বহুতল কমপ্লেক্স, প্রশস্ত পার্কিং সুবিধা, উন্নত ওজুখানা, আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশই ঘটবে না, বরং সিলেট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় আধ্যাত্মিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘প্রবাসী পল্লী’ নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন সিউক চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন, নিরাপদ বিনিয়োগের পরিবেশ, আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপিত প্রতিটি প্রস্তাব অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে শোনা হয়। সিলেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভাবনা ও সুপরিকল্পিত মেগা প্রকল্পগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্পের বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান ও কারিগরি নকশা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক সাড়া সিলেটের পরিকল্পিত নগরায়ণ, ধর্মীয় পর্যটন, প্রবাসী বিনিয়োগ এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেটের জন্য এত বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়াকে অনেকেই “শুরুতেই কয়েস লোদীর বাজিমাত” হিসেবে দেখছেন।
বৈঠক শেষে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে আধুনিক, টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিলেটের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর এই উদ্যোগ নগর পরিকল্পনা, ধর্মীয় পর্যটন, প্রবাসী বিনিয়োগ এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
