মৃতদেহের মুখে সোনার টুকরো, মিসরে মিলল প্রাচীন সমাধি ও শহর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো বেশ কয়েকটি সমাধি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে বাইজেন্টাইন আমলের একটি পরিকল্পিত শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন মিসরীয় প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। দেশটির পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, আলেকজান্দ্রিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) পশ্চিমে মেরিনা এল-আলামিন এলাকায় উপকূলীয় এ আবিষ্কারটি করা হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে খননকাজ চালিয়ে গ্রিক-রোমান আমলের ১৮টি সমাধির সন্ধান পাওয়া যায়।
আবিষ্কার হওয়া বেশ কয়েকটি সমাধিকক্ষ এখনো মূল পাথরের স্ল্যাব দিয়ে আটকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রায় আড়াই মিটার (৮ ফুট) লম্বা একটি গ্রানাইটের তৈরি সারকোফ্যাগাস (পাথরের কফিন) অক্ষত ঢাকনাসহ পাওয়া যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সমাধিগুলো প্রায় দুই সহস্রাব্দ ধরে অক্ষত ও সিল করা অবস্থায় ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সমাধিগুলোর ভেতরে মানব দেহাবশেষের পাশাপাশি মৃৎপাত্র, অ্যামফোরা (প্রাচীন দুই হাতলবিশিষ্ট পাত্র) এবং দাফনের অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে পেয়েছেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকজনের মুখের ভেতর রাখা ২৪টি সোনার বস্তু। পরকাল সম্পর্কিত বিশ্বাসের সঙ্গে দাফনের এ প্রাচীন প্রথার সম্পর্ক রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এ স্থানটি প্রাচীন শহর লিউকাস্পিসের অংশ। এটি ছিল ভূমধ্যসাগরীয় একটি বন্দর নগরী, যা হেলেনিস্টিক ও বাইজেন্টাইন যুগে বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯৮৬ সালে নির্মাণকাজ চলাকালীন প্রথমবারের মতো এ স্থানটি চিহ্নিত করা হয়। এরপর থেকে মেরিনা এল-আলামিন এলাকায় এ পর্যন্ত মোট ৪৪টি সমাধির সন্ধান পাওয়া গেল।
এদিকে শুক্রবার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিসরের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমির দাখলা মরুদ্যানের আইন আল-সাবিলে বাইজেন্টাইন আমলের একটি জনবসতির ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। এটি চতুর্থ শতাব্দীর (খ্রিষ্টাব্দ) বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাটির তৈরি ইটের এ শহরটিতে পরিকল্পিত রাস্তার গ্রিড, উন্মুক্ত চত্বর, আবাসিক ভবন, ব্যাসিলিকা রীতির গির্জা এবং প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো রয়েছে, যা মরুভূমির অভ্যন্তরে একটি সুসংগঠিত নগর সম্প্রদায়ের ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া স্থানটি থেকে কপটিক ও গ্রিক ভাষায় লেখা প্রায় ২০০টি অস্ট্রাকা (লেখার কাজে ব্যবহৃত মৃৎপাত্রের টুকরো) পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ব্রোঞ্জ ও সোনার মুদ্রা, যার মধ্যে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় কনস্টান্টিয়াসের (৩৩৭-৩৬১ খ্রিষ্টাব্দ) শাসনামলের মুদ্রাও রয়েছে।
পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিসর। দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে প্রায়ই এমন বড় মাপের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোকে কাজে লাগানো হয়।
সুয়েজ খাল থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং প্রবাসী মিসরীয়দের পাঠানো রেমিট্যান্সের পাশাপাশি পর্যটন খাত দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।
সূত্র: জিও নিউজ
