জাপানে জন্মহারে ফের রেকর্ড পতন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
জাপানে জন্মহার ও উর্বরতার হারে (fertility rate) আবারও রেকর্ড পতন ঘটেছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানি নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬। সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বা ১৪ হাজার ৯৩৭টি কম। এর মাধ্যমে টানা দশম বছরের মতো জন্মসংখ্যা হ্রাস পেল।
জাপানি বার্তাসংস্থা জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
একই সঙ্গে দেশটির মোট উর্বরতার হার (Total Fertility Rate) কমে ১ দশমিক ১৪-এ নেমে এসেছে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। আগের বছরের তুলনায় এ হার দশমিক শূণ্য ১ পয়েন্ট কমেছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় জন্মহারের পতনের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় নবজাতকের সংখ্যা কমার গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। তবে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিয়ের সংখ্যা বেড়েছে
ভবিষ্যতের জন্মহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত বিয়ের সংখ্যা ২০২৫ সালে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বেড়েছে। এ বছর মোট ৪ লাখ ৮৯ হাজার ১১৯টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে। বিয়ের সময় পুরুষদের গড় বয়স ছিল ৩১ বছর এবং নারীদের ২৯ দশমিক ৭ বছর, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম।
কিছু প্রদেশে বেড়েছে জন্মসংখ্যা
জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে মাত্র চারটিতে জন্মসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী টোকিও, তোয়ামা এবং ইশিকাওয়া প্রিফেকচারে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো জন্মসংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে কাগাওয়া প্রিফেকচারে চার বছরের মধ্যে প্রথমবার এ বৃদ্ধি দেখা গেছে।
প্রিফেকচারভিত্তিক উর্বরতার হারে ওকিনাওয়া সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যেখানে হার ১ দশমিক ৫২। এর পর রয়েছে মিয়াজাকি (১ দশমিক ৪৬) এবং ফুকুই (১ দশমিক ৪৫)। অন্যদিকে সর্বনিম্ন উর্বরতার হার দেখা গেছে টোকিওতে (দশমিক ৯৬)। এরপর রয়েছে হোক্কাইডো ও মিয়াগি, যেখানে হার ১.০০।
জনসংখ্যা কমছে দ্রুতগতিতে
২০২৫ সালে জাপানে মোট ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৯টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট মৃত্যুহার কমে আসাই এর অন্যতম কারণ।
তবে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় দেশটির জনসংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমেছে ৯ লাখ ১৮ হাজার ২৫৩ জন। এটি টানা ১৯তম বছরের মতো জনসংখ্যার প্রাকৃতিক হ্রাস।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জাপানে জন্মসংখ্যা নেমে এসেছিল প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজারে, যা প্রথমবারের মতো ৭ লাখের নিচে নেমে যায়। অথচ ২০২৩ সালে দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটির রিসার্চ পূর্বাভাস দিয়েছিল যে ২০২৫ সালে জন্মসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৪৯ হাজার হবে। বাস্তবে সেই পূর্বাভাসের তুলনায় জন্মসংখ্যা অনেক কম হয়েছে।
জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য, কম জন্মহার এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকোচন জাপানের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কার্যকর জনসংখ্যা নীতি গ্রহণ না করলে আগামী দশকগুলোতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
