বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শওকতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্যানিং পূর্বের সাবেক বিধায়ক, তৃণমূল কংগ্রেসের আলোচিত নেতা শওকত মোল্লাকে খুঁজছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা। তার ছেলেকে আটক করা হলেও তাকে আটক করা যায়নি। নদী পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশ পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি অনেকের। তবে তিনি তার কোনো আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, শওকতের তিনটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ রয়েছে। তাকে পলাতক ঘোষণা করেছে এনআইএ। তিনি যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারেন, সেই কারণে ইতোমধ্যেই বিএসএফের সঙ্গে তার যাবতীয় তথ্য শেয়ার করেছে এনআইএ।

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। সেই ঘটনার তদন্তে সম্প্রতি গতি বাড়িয়েছে কেএনআইএ। তদন্তের সূত্রে বেশ কিছুদিন আগে আহিদুল ইসলাম নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার এনআইএর একাধিক দল ভাঙড়ে হানা দেয়। একটি দল ক্যানিং পূর্বের তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয়সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশির আগেই নাকি এলাকা ছাড়েন শওকত। ফলে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তদন্তকারীদের। এরপর তৃণমূল নেতার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন তদন্তকারীরা। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শেষ বার লাল পোশাকে বাসন্তীর দিকে চুনাখালিতে একজনের বাইকে দেখা গিয়েছে শওকতকে। পরিকল্পনা করেছিলেন নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর। কারণ, বাসন্তীর খেয়াঘাট পেরোলেই উত্তর ২৪ পরগনার দাদবেড়িয়া খেয়াঘাট। সেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত একদম কাছে। তবে স্থানীয়রা শওকতকে শনাক্ত করেই তার পথ আটকায়।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মাদ্রাসার দিকে চলে যান শওকত। মনে করা হচ্ছিল মাদ্রাসাতেই লুকিয়ে ছিলেন তিনি।এরপরই রাতভর মাদ্রাসা, এলাকার সব, এমনকি জঙ্গলেও তল্লাশি চালায় এনআইএ, কেন্দ্রীয় বাহিনী।তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য