সিরিয়ায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতে নিহত ৫০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

সিরিয়ার দ্রুজ অধ্যুষিত সুয়েইদা প্রদেশে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৫ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে সরকার।   গত রবিবার থেকে সুয়েইদায় দ্রুজ যোদ্ধাদের সঙ্গে সুন্নি বেদুইন গোত্র এবং সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্রদের সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হন ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুয়েইদা শহরের পরিস্থিতি ছিল জনশূন্য। দোকানপাট লুট হয়েছে, ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে এবং রাস্তায় পড়ে ছিল মৃতদেহ। ৩৯ বছর বয়সী চিকিৎসক হানাদি ওবেইদ বলেছেন, ‘শহরটিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন এটি সদ্য বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বেরিয়ে এসেছে।’

গত মঙ্গলবার সরকারি সেনা মোতায়েন ও ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে সাম্প্রদায়িক রক্তপাত আরও বেড়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থের’ কথা মাথায় রেখে সুয়েইদায় নিরাপত্তার দায়িত্ব আবার স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সুয়েইদা প্রদেশে সংঘর্ষে ৫৯৪ জন নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, এই সহিংসতার কারণে দক্ষিণ প্রদেশের ‘প্রায় দুই হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।’

সরকারি বাহিনী সুয়েইদায় অবস্থান নেওয়ার পর ইসরায়েল একের পর এক বিমান হামলা চালায়। শুধু সুয়েইদা নয়, রাজধানী দামেস্কের সামরিক সদর দফতরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। ইসরাইল জানায়, সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হামলা জোরদার হবে।

অবজারভেটরি জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় দামেস্কে তিনজন নিহত হয়েছেন।

পরে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সানা’ জানায়, সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পরও ইসরাইল থামেনি এবং সুয়েইদার উপকণ্ঠে ফের আঘাত হেনেছে।

এদিকে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সুয়েইদায় দ্রুজ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন, যার ফলে সরকারি বাহিনীকে সেখান থেকে সরে আসতে হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য