সুদ-ঘুষের আলোচনা করায় খুতবায় ইমামের মাইক বন্ধ করলেন আ. লীগ নেতা!

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নিয়ে আলোচনায় করাকালে মসজিদের ইমামকে বাধা, হুমকি ও মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) জুম্মার নামাজের খুতবা শুরুর আগে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সুদ-ঘুস, ভণ্ডামি  মাজার পূজারি ও মাদকের কুফলসহ ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নিয়ে বয়ান  করছিলেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত মুসল্লি আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক চারবারের ইউপি সদস্য শরিফ উল্লাহ আলোচনারত ইমাম সাহেবকে বয়ান পেশ করতে বাধা ও হুমকি দিয়ে মাইক বন্ধ করে দেন। এসময় প্রভাবশালী ওই নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায়নি।

জানা গেছে, সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ উল্লাহ একজন মাজার পূজারি বটে। তিনি প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা খরচ করে ভক্তবৃন্দ নিয়ে পীরের ওরস মোবারক উদযাপন করেন। আওয়ামী দুঃশাসন-কালে তার ভয়াবহ দাপটে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, সুদ-ঘুষ-জুয়া ও মাদক সেবনসহ ধর্মের নামে যাবতীয় অন্ধ গোঁড়ামি বন্ধ হউক। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ উল্লাহ সেসব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় মসজিদের ইমাম সাহেব এসবের বিরুদ্ধে বয়ান করায় আজ তাকে হুমকি দিয়ে  চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মসজিদের ঈমাম মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদের খেদমতে নিয়জিত আছি। গত জুম্মার নামাজের আগে সুদ, ঘুষ, জুয়া ও মাদক বিরোধী বয়ানরত অবস্থায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা বাধা ও হুমকির মুখে এক পর্যায়ে মাইক বন্ধ করে দেন। তার এহেন ধর্মদ্রোহী আচরণে আমি মর্মাহত হয়ে মসজিদের  ইমামতির দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হই।

অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য শরিফ উল্লাহ বলেন, ভিন্ন বিষয় নিয়ে ইমামের সাথে আমার  বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তা সমাধান ও হয়েছে। কিন্তু ইমাম সাহেব অনেক আগে থেকেই মসজিদের দায়িত্ব  ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য