গাজীপুরে ওসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণখান মৌজায় পুলিশের সহযোগিতায় জমি দখল চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলা চলাকালে গতকাল রবিবার সকালে আবারও পুলিশের উপস্থিতিতে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়।

মামলার বাদী মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকার হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া। তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুর প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ৯ নম্বর আসামি সদর মহানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ক্রয়সূত্রে পৌনে ৭৯ শতাংশ জমি নামজারি জমাভাগ করে প্রায় ২৯ বছর যাবত ভোগদখল করছেন হাজী আব্দুল লতিফ। বর্তমানে রেলপথের ঢাকা–টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল লাইন এবং টঙ্গী–জয়দেবপুর সেকশনে দ্বিতীয় ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফকনস-কেপিটিটু জেভি কোম্পানি জমির মালিকের কাছ থেকে ওই জমি ভাড়া নিয়ে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি জমির রেকর্ডিয় মালিক মৃত লাবু মিয়ার ছেলে নাছির মোল্লা ও তার স্বজনরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে থানার ওসির সহযোগিতায় তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। অথচ লাবু মিয়া জীবদ্দশায় নিজের প্রাপ্য অংশের অর্ধেকেরও বেশি জমি বিক্রি করে দেন বলে দাবি বর্তমান মালিকপক্ষের। তাদের মালিকানাধীন ভোগদখলীয় পৌনে ৭৯ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

হাজী আব্দুল লতিফের ছেলে মিয়া হোসেন রানা বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ওসি মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলামের সহযোগিতায় মহানগরীর স্থানীয় দাক্ষিণখান মৌজায় কয়েক দফায় প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি দবর দখল প্রচেষ্টা চালান। গতকাল রবিবারও ওসির উপস্থিতিতে জমিটি জবর দখলের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জিয়াউল ইসলাম জমি দখলে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। জমির সীমানা নির্ধারণ করার কথা বলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমাছ মোল্লা ফোন করে আমাকে সেখানে নিয়েছেন। আমি সেখানে যেতে চাইনি।’ জমি দখলের ঘটনায় তাঁকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা প্রসঙ্গে জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে ভুল বুঝে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।’

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমাছ মোল্লার বলেন, ‘আমি ওসি সাবকে ফোন করে আনিনি, বরং তিনি নিজেই এসেছেন। হাজী আব্দুল লতিফ প্রায় ৩০ বছর ধরে জমিটি দখলে আছেন। ওসি আদালতের নির্দেশনা ছাড়া অন্যায়ভাবে বার বার ওই জমি থেকে আব্দুল লতিফকে বেদখল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

এ ব্যাপারে মামলার বিবাদী (নাছির মোল্লা) পক্ষের আইনজীবী নূর মোহাম্মদ জানান, হাজী আব্দুল লতিফ রেকর্ডীয় মালিক চাঁন মিয়ার ছেলে তারা মিয়ার কাছ থেকে জমি কিনেছেন। অথচ চাঁন মিয়া জীবদ্দশায়ই ওই জমি বিক্রি করে গেছেন। তারা হাজী আব্দুল লতিফের নামজারি জমাভাগ (জোত নং-৬১৪) বাতিল করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে স্থানীয় ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে ওই জোত বহাল পাওয়া গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য