বর্ষাকালে ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণে অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে নিয়মিত বাজার করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই একবারে বেশি বাজার করে ফ্রিজে রাখা বা কয়েক দিনের খাবার একসঙ্গে রান্না করে সংরক্ষণ করার প্রবণতা বেড়ে যায়। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে ফ্রিজে রাখা খাবার থেকেও দুর্গন্ধ বের হতে পারে এবং খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার অতিরিক্ত আর্দ্রতা ফ্রিজের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি সহজ করে তোলে। ফলে খাবারের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়াসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষায় ফ্রিজ ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

ভেজা ফল ও সবজি সংরক্ষণ করবেন না

ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় ফল বা শাকসবজি ফ্রিজে রাখলে আর্দ্রতার কারণে দ্রুত ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। তাই এগুলো সংরক্ষণের আগে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে বা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নেওয়া উচিত।

রান্না করা খাবার বেশি দিন রেখে দেবেন না

অনেকেই কয়েক দিনের খাবার একসঙ্গে রান্না করে ফ্রিজে রাখেন। তবে রান্না করা খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে তাতে জীবাণু জন্মানোর আশঙ্কা বাড়ে এবং দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। নিরাপদ রাখতে ফ্রিজের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা এবং রান্না করা খাবার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো।

পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখুন

বেশিরভাগ ফ্রিজেই অতিরিক্ত আর্দ্রতা বের হওয়ার জন্য একটি ড্রেন বা নিষ্কাশন ছিদ্র থাকে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরে পানি জমে যায়, যা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই নিয়মিত এই অংশ পরিষ্কার আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

দরজার রাবার সিল পরিষ্কার রাখুন

ফ্রিজের দরজার রাবার সিলে ধুলাবালি, খাবারের কণা ও আর্দ্রতা জমে থাকলে সেখানে ছত্রাক তৈরি হতে পারে। এতে শুধু দুর্গন্ধই নয়, খাবারও দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নরম কাপড় দিয়ে নিয়মিত রাবার সিল পরিষ্কার ও শুকনো রাখা উচিত।

ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না

ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার রাখলে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে কিছু খাবার প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় না থাকায় দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই খাবার এমনভাবে সাজিয়ে রাখা উচিত, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।

বর্ষাকালে খাবার নিরাপদ রাখতে শুধু ফ্রিজে রাখাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত খাবার খেয়ে ফেলা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব অভ্যাস মেনে চললে খাবারের মান ভালো থাকে এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকিও কমে।

এ বিভাগের অন্যান্য