ওয়াশিং মেশিন-মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ
সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি ঘিরে জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের উত্থাপিত এ দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ কটাক্ষমূলক মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন আন্দালিব রহমান পার্থ। বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশের মানুষ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু জনপ্রতিনিধিই নন, সংসদেরও প্রতিনিধি। দেশের ভেতরে ও বাইরে তারা সংসদের ভাবমূর্তি বহন করেন।
বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরার জায়গা সংসদ। সেখানে একজন সদস্য যদি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা পর্দা না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তাহলে সেটি সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা দরকার।
একাদশ সংসদে গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে এমপি পার্থ বলেন, যখন গাড়ি ও প্লটের মতো সুবিধা ত্যাগ করা হয়েছে, তখন কেন সংসদে দাঁড়িয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ওয়াশিং মেশিন নিয়ে আলোচনা করতে হবে?
এ সময় কৌতুকের সুরে আন্দলিব রহমান পার্থ বলেন, যদি ভবিষ্যতে আমার ভাইয়ের মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা পর্দার প্রয়োজন হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিতে প্রস্তুত আছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, তিনি যেন একটি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করেন।
সংসদে উপস্থিত সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে পার্থর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তিনি নিজের জন্য নয়, সংসদের দেওয়া আবাসিক ভবনে থাকা সব সদস্যের সুবিধার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিষয়টি সংসদে না বললেও হতো। তবে তিনি এমন কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি। সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য সংসদীয় কমিটি রয়েছে। সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত।
তিনি আরো বলেন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা পর্দা এমন কোনো বড় সুবিধা নয় যে তা নিয়ে সংসদে বড় ধরনের বিতর্ক হওয়া উচিত। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
পার্থর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আপনি যেভাবে একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, সেটিও তার জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। তিনি নিজের জন্য চাননি, সবার জন্য চেয়েছেন। তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই।
এরপর স্পিকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য সবার জন্য একটি দাবি উত্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি সংসদে না তুলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে জানানো যেত।
তবে পার্থর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গাড়ি, প্লটসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। তিনি একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, কিন্তু নিজেই আবার সবকিছু দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়ে দিলেন। অথচ কেউ তার কাছে কিছু চাননি।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত নয় যে এখানে দাঁড়িয়ে কারো সম্মানে আঘাত করা হবে। সংসদে পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ফ্ল্যাটগুলোর দরজা-জানালায় এখনো পর্দা লাগানো হয়নি। পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্পিকারের সহায়তা কামনা করেন তিনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সংসদে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
