প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন?
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে হোয়াইট হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
যুদ্ধবিরতির শেষ সময়ে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানে আবার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে বহনকারী বিমান নিয়ে ঘাঁটিতে অপেক্ষা করছিলেন কমান্ডার অ্যান্ড্রুজের টারম্যাক।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন তখনো উভয় সংকটের সামনে ছিল, তাদের প্রতিনিধিরা যাবে কি না।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চুক্তির কিছু সাধারণ শর্তের একটি তালিকা আগেই ইরানকে পাঠিয়েছিল। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বিষয়গুলো নিয়ে ইরানিরা পর্যালোচনা করে বিষয়গুলোতে সম্মত হতে পারে। কিন্তু বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও ইরানের কাছ থেকে শর্তের বিষয়ে কোনো সাড়া মেলেনি।
বৈঠকে উপস্থিত মার্কিন তিনজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা মনে করেন দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইরানের সাড়া না পাওয়ার কারণ বর্তমান ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভেদ। এই তথ্য পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের পাঠানো বার্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুদের বিষয়ে আলোচকদের কতটা ক্ষমতা দেওয়া হবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই, যা শান্তি আলোচনার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।
এসব উল্লেখযোগ্য বাধা সত্ত্বেও একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানি আলোচকদের শিগগিরই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। কিন্তু তা আদৌ ঘটবে কি না এবং কখন ঘটবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার পরিবর্তে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে শান্তি আলোচনার জন্য সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানি সরকারি কর্মকর্তাদের ‘মারাত্মকভাবে বিভক্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এই যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আগ্রহী এবং যুদ্ধ আবার শুরু না হয় সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন। যেটিতে ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন ট্রাম্প।
