কৃষক কার্ড বিতরণ আজ : কারা পাবেন, মিলবে যেসব সুবিধা
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে।
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।
তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব কৃষককে এ ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এই কার্ড।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো, প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষীকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে।
এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
কার্ড পাওয়া কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো এক, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, দুই, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, তিন, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, চার, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, পাঁচ. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ছয়, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, সাত. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, আট, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, নয়, কৃষি বিমা সুবিধা এবং দশ, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।
