স্বর্গডানায় কুড়ি ও আবদুল মুকিত অপি

বশির আহমদ জুয়েল

অপির নামের আগে যে অসংখ্য বিশেষণ মানুষ জুড়ে দেয়—কবি, আইনজীবী, সাহিত্য-সম্পাদক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, সংস্কৃতিসেবী— সবই সত্যি, সবই প্রাপ্য। তবু আমার কাছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ বিশেষণ একটাই—বন্ধু আবদুল মুকিত অপি। এই নামের ভেতরেই তার সব মহিমা মিশে আছে।

৬ জানুয়ারি ২০০৬ থেকে ২০২৬—অপি পূর্ণ করল বিয়ের দুই দশক, তার স্বপ্নযাত্রার কুড়ি বছর।
জীবনের পথচলায় সে পেরিয়েছে প্রেমের প্রথম পদচিহ্ন, নতুন নতুন আলোয় ভরেছে তার দিনগুলো।

তার বিয়ের স্মারক ‘স্বর্গডানা’—এ শুধু একটি বই নয়,
এ এক যুগের দলিল, এক অনন্য প্রেমপত্র, যা আমার জানা মতে ইতিহাসে দ্বিতীয় নেই। বিয়ে উপলক্ষে প্রকাশিত দুই শ চৌত্রিশ পৃষ্ঠার সেই মহাস্মারক
আজও প্রমাণ করে—অপি কেবল বিয়ে করেনি, সে তার ভালোবাসাকে শিল্পে রূপ দিয়েছে। স্বপ্নবাজ অপির ভেতরে অন্যকে স্বপ্ন দেখানোর অলৌকিক ক্ষমতা আছে। সে শুধু নিজের পথই দেখে না, বন্ধুর পথও দেখায়, স্বপ্নের ঠিকানাও বলে দেয়—একবার নয়, বারবার।

ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের পথে হয়তো ফারাক আছে,
কিন্তু হৃদয়ের জায়গায় নেই কোনো দূরত্ব। বন্ধুতায় নেই কোনো হিসাব-নিকাশ, কোনো দাবিদাওয়া—শুধু একটি নির্মল ভালোবাসা, যেখানে অপি আছে, আমি আছি,
আর আছে আমাদের বছরের পর বছর জমা স্মৃতি।

অপির স্বর্গডানায় এসেছে দুই সোনামণি—সারাহ সানজিদা ও সাইফান রাহিম। তাদের প্রতি আমার অগাধ স্নেহ, আদর আর আশীর্বাদ রইল। দেশে থাকলে এই কুড়ি বছর উদযাপন করতাম সত্যিই অন্যরকমভাবে, আরও বর্ণিলভাবে—হয়তো একুশে বাংলা ফাউন্ডেশনের দশক উদযাপনের চেয়েও জমকালো, আরও স্বপ্নময়, আরও হৃদয়ছোঁয়া কিছু।
কিন্তু দূরে থেকেও বন্ধুতার সীমানা কি কোনোদিন দূরত্ব মানে? না, কখনোই না। তাই দূর দেশ থেকে পাঠালাম
ভালোবাসা-মেশানো নির্ণয়হীন শুভেচ্ছা।

বন্ধু অপি—স্বর্গডানার শতবর্ষেও যেন বলতে পারিস,
এই তো সেদিন…হাসিমাখা মুখে স্মৃতি যেন রোদের মতো ঝলমল করে উঠে। স্বপ্ন, প্রেম, পরিবার আর সৃষ্টিশীলতায় তোর স্বর্গডানা আরও বহুদূর উড়ে যাক—
এই আমার প্রার্থনা, এই আমার বন্ধুতার চিরন্তন ভালবাসা।

এ বিভাগের অন্যান্য