কিশোরগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, বাস চলাচল বন্ধ
সিলেটের সময় ডেস্কঃ
কিশোরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের আন্ত জেলা গাইটাল বাস টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার আহমেদ কাইয়ুম ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ১১ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে।
এ ঘটনার পরপরই কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই বিকেল পাঁচটা থেকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্র্রমিক ইউনিয়ন।
সরেজমিন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে যাতায়াত পরিবহনের কাউন্টারে কিশোরগঞ্জ মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার আহমেদ কাইয়ুম ও কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম মানিক এসে গাড়ি বন্ধ রাখতে বলেন। যাতায়াত পরিবহনের পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্রমিক কাঞ্চন, বাবু গাড়ি বন্ধ রাখার কারণ জিজ্ঞেস করতে গেলে তাদের মারপিট করা হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে লাঠিচার্জ ও ১১ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুঁড়ে। ঘটনার পরপরই শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পক্ষ কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।
কিশোরগঞ্জ মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার আহমেদ কাইয়ুম বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাসটার্মিনালে কাজ হবে। যাতায়াত পরিবহনের চেয়ারম্যান মানিক সরকারের কাছ থেকে সাধারণ মালিকেরা ১০-১৫ লাখ টাকা পাবে। এই টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত গাড়ি চালানো বন্ধ থাকবে। আজ আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করার সময় যাতায়ত পরিবহনের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।
যাতায়াত পরিবহনের পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যাতায়াত পরিবহনের ৫০টি বাস ১৮ দিন যাবত বন্ধ। শফিকুল ইসলাম মানিক ৫ লাখ টাকা চাঁদা চাইছিল। চাঁদা না দিলে একটি গাড়িও চলবে না। বিকেলে আমরা বাস চালু করলে আমাদের কাউন্টার মানিক পেছনে নিতে বলে। আমরা কাউন্টার পেছনে কেন নেব জিজ্ঞেস করলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের একজন শ্রমিক নেতা কাঞ্চন মারাত্মক আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি নিজেও আহত হয়েছি।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মানিক বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিকে কারা মেরেছে এ কারণে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সব গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। মালিক সমিতি শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়েই চলবে। শ্রমিক ইউনিয়ন যা করবে এতে আমাদের সর্মথন রয়েছে।
এদিকে যাতায়াত পরিবহনের চেয়ারম্যান মানিক সরকার বলেন, শ্রমিক নামধারী সন্ত্রাসী শফিকুল ইসলাম মানিক আমাকে বলে যাতায়াত পরিবহন বাসটার্মিনাল থেকে চালাতে হলে আমাকে এককালীন ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে এবং মাসে ১ লাখ টাকা করে দিয়ে যেতে হবে। চাঁদা না দেয়ার কারণে গত ১ ডিসেম্বর আমার যাতায়াত পরিবহনের ৫০টি বাস বন্ধ করে দেয়।
সোমবার বিকেলে বাস চালু করতে চাইলে শফিকুল ইসলাম মানিক ও কিশোরগঞ্জ মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার আহমেদ কাইয়ুমের নেতৃত্বে হামলা চালায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও হোসেনপুর সার্কেল) মোহাম্মদ আল-আমিন হোসাইন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ১১ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে।
