রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে
সিলেটের সময় ডেস্ক :
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়সহ নথি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে নাথিটি পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রায়সহ মামলার মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আলোচিত এ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে পাশাপাশি আসামি সোহেল রানার ৫ লাখ ও স্বপ্নার ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। যা আসামিরা স্বেচ্ছায় না দিলে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত পূর্বক বিক্রয় করে রামিসার পরিবারকে প্রদানের আদেশ দেন। দেশের ইতিহাসের এই প্রথম মাত্র ৫ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়— ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।মামলার দায়েরের প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে আটক রয়েছে।
