গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ৮ মাসের শিশুসহ দম্পতি নিহত

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়কে আট মাসের দুধের শিশু নূরকে কোলে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে সড়ক পাড় হচ্ছিলেন বিথী আক্তার। হঠাৎ একটি কাভার্ডভ্যান মুহূর্তেই সব শেষ করে দিল। পিষে মারলো রাকিব হাসান ও স্ত্রী বিথী আক্তারসহ তাদের আট মাসের শিশু নূরকে।

মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে আজ শনিবার দুপর দেড়টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ২নং সিএন্ডবি এলাকায়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভি নিহত দম্পতির মরদেহ ও আহত নূরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত নূরকে পড়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

নিহত রাকিব হাসান (৪২) পিরুজপুর জেলা সদরের রানিপুর গ্রামের মো. সেকান্দর আলী বেপারীর ছেলে। অপর বিথী আক্তার (৩৫) নিহত রাকিবের স্ত্রী ও বরিশাল জেলা এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে। রাকিব স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উপজেলার ২নং সিএন্ডবি এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় ডেনিম্যাগ কারখানায় এডমিন অফিসারের চাকরি করতেন।

স্থানীয়রা জানান, নিতহ রাকিব ২নং সিএন্ডবি এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। শনিবার দুপরে স্ত্রী সন্তানিয়ে ২নং সিএন্ডবি এলাকায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক পাড় হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুত গতির কাভাভ্যান তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই রাকিব ও বিথী প্রান হারান। অলৌকিক ভাবে বেঁচে যায় মায়ের কোলে থাকা আট মাসের দুধের শিশু নূর।খবর পেয়ে ফায়র সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ ও আহত শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

নিহত রাকিবের ভাগনি জামাতা সুহান সিকদার জানান, তিনি অন্য একটি কারখানায় চাকরি করেন। মামা রাকিব হাসান স্ত্রী সন্তান নিয়ে ২নং সিএন্ডবি এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। শনিবার দুপুরে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পাড় হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়েন। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তাদের মরদেহ দেখতে পান তিনি। গুরুতর আহত হয় মামার আট মাস বয়সী ছেলে নূর। তাকে জরুরিভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। পরে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয়।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)জুয়েল বর্মণ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিথী ও আহত শিশু নূরকে এবং ফায়ার সার্ভিস রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আল নাফিজ জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস রাকিব ও বিথীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। সঙ্গে ছিল নিহতেদের গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত আট মাসের শিশু নূর। তাকে উন্নৎ চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মাওনা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর হতাহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে ধরতে কাজ করছে পুলিশ। স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য