তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন করে অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। দলটির একাংশের বিধায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত প্রার্থীর পরিবর্তে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল নেতৃত্বের মনোনীত প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হলেও একাধিক বিধায়ক ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে বিধানসভায় দলটির অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, ক্ষুব্ধ নেতাদের একটি অংশের অসন্তোষ মূলত দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে, যদিও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সরাসরি কোনো প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়নি।

অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দলনেত্রীর বাসভবনে ডাকা এক বৈঠকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতায় দলীয় পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। অসন্তুষ্ট বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সংকট আরও গভীর হয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা জাল স্বাক্ষরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে পাঠানো চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা নিজেদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পরবর্তীতে সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, বিধায়কদের তালিকায় স্বাক্ষরের দায়িত্বে থাকা দলের সাধারণ সম্পাদকই এ ঘটনার জন্য দায়ী।

এদিকে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত করছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এ ঘটনায় দলের একাধিক নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে দল পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির বিজেপিও এ পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করছে। দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা দিলিপ ঘোষ সোমবার মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দলে শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়া অধিকাংশ নেতাই দলত্যাগ করতে পারেন।

সব মিলিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দলটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য