নির্ধারিত সময়ের আগেই সিলেটে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ, প্রশংসায় ভাসছেন প্রশাসক কাইয়ুম

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট নগরীতে কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার আগেই বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে নগরীর অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে নগরবাসীর মাঝে। পরিচ্ছন্ন নগরী বজায় রাখতে সিসিকের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন নগরবাসী।

ঈদের দিন ভোর থেকেই সিসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য অপসারণে মাঠে নামেন। প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নিজেও নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়।

নগরবাসীর অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিসিকের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ হয়েছে।” আবার অনেকেই প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরীর আন্তরিকতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণের ফলে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। নগরবাসীর মতে, সিসিকের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা আরও সহজ হবে।
ঈদের জামাত শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করেন। কোরবানির পরপরই নগরজুড়ে শুরু হয় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। সকাল থেকেই সিসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে কাজ করেন। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন।

সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

ঈদুল আজহা ও পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় সিসিক। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করা হয় এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া কোরবানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের মাঝে ৩০ হাজার পচনশীল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। চালু রাখা হয় ২৪ ঘণ্টার হটলাইন সেবাও।

সিসিক সূত্র জানায়, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। এ কাজে সিসিকের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়াকৃত আরও ৫৫টি ট্রাক ব্যবহার করা হয়। বুধবার রাত থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।

সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন জানান, নগরবাসীর সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে।

নগরীর আম্বরখানার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন,
“আগে কোরবানির পর কয়েকদিন দুর্গন্ধে চলাফেরা করা কঠিন হতো। এবার খুব দ্রুত বর্জ্য সরিয়ে নেওয়ায় স্বস্তি পেয়েছি।”

উপশহরের গৃহিণী সালমা বেগম বলেন,
“সকালে কোরবানি দিয়েছি, দুপুরের আগেই সব বর্জ্য পরিষ্কার হয়ে গেছে। সিসিককে ধন্যবাদ জানাই।”

তবে কিছু এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, নগরীর কয়েকটি অলিগলিতে বর্জ্য অপসারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে সিসিক জানিয়েছে, সব এলাকাতেই পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং কোথাও যেন বর্জ্য পড়ে না থাকে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

দ্রুত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করায় সিসিকের এবারের কার্যক্রম নগরবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য