জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে জিন্নাত আলী নামে এক রোগীকে হত্যার অভিযোগে মামলার আবেদন করেছেন নিহতের মা।

আজ বৃহস্পতিবার নিহতের ছেলে ‎আবু হুরায়রা বাদী হয়ে আদালতে এই মামলার আবেদন করেন।

‎ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন। ‎বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মণ্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‎‎মামলার অপর আসামিরা হলেন হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল ‎হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার ও রিসিভশন জুনায়েদ।

‎মামলার আবেদনে বলা হয়, বাদীর বাবা ভিকটিম জিন্নাত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিকটিমকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে ভিকটিমকে ঢাকার জাতীয় হৃদয়রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করায়।

ওয়ার্ড বয় শহিদ এসে ভিকটিমকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাদীকে বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করেছি আপনার বাবার হার্টে কোন সমস্যা নেই, আপনার বাবার সমস্যা মাথায়। এই মুহূর্তে আপনার বাবাকে আইসিইউ’তে নিতে হবে। আমাদের এখানে আইসিইউ নাই এবং এই মুহূর্তে ঢাকার কোনো হাসপাতালে আইসিইউ খালি নেই। প্রাইভেট হৃদয় জেনালের হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে, সেখানে ভর্তি করান আমি বলে দিচ্ছি। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা করে আবারও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়া আসা হবে।’

‎‎আরও বলা হয়, আসামিদের কথামতো বাবার চিকিৎসার জন্য বাদী রাজি হয়। আসামিরা চিকিৎসা বিলের চাইতে বেশি টাকা দাবি করলে হাসপাতাল থেকে ভিকটিমকে নিয়ে যেতে চান বাদী। এ সময় আসামিরা টাকা ছাড়া ভিকটিমকে ছাড়তে চায়নি। বাদী বারবার অনুরোধ করলে বাদীকে আটক করে মারধর করে এবং ভিকটিমের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায় বাদী নিরুপায় হয়ে ধার দেনা করে টাকা পরিশোধ করেন। বাদী তার বাবাকে পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হলে কর্তব্যরত ডাক্তার নার্সসহ ওয়ার্ডের সকলেই বলেন রোগীর যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। অতঃপর বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বাদীর বাবা ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিয়োগ করলে বাদীকে কিল, ঘুষি মেরে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য