১০৭ বিধায়ক নিয়ে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি বিজয়ের দলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে সদ্য রাজনীতিতে আসা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) চমকপ্রদ সাফল্য পেলেও এ পর্যন্ত মেলেনি সরকার গঠনের নির্ধারিত আসন সংখ্যা।
এ অবস্থায় যদি এম. কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে বা এডাপ্পাড়ি কে. পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে রাজ্য সরকার গঠনের দাবি জানায়, তবে দলের সব বিধায়ক একত্রে পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে টিভিকে।
আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
১০৭ আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে চমক সৃষ্টি করেছে টিভিকে। দলটির দাবি, সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য প্রথমে তাদেরই আমন্ত্রণ জানানো উচিত। তবে রাজ্যপাল আর ভি আরলেকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে না পারায় বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দেননি।
প্রতিবেদনে রাজভবনের তরফ থেকে দেয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য টিভিকের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে দলটির ১০৭ আসনের সঙ্গে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন যোগ হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাম দল ও ছোট কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে দলটি।
এদিকে আজ সকালে ডিএমকে-র এক বৈঠকে চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রস্তাবে দলীয় প্রধান স্ট্যালিনকে “জরুরি সিদ্ধান্ত” নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ডিএমকে জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য পুনর্নির্বাচন এড়িয়ে স্থিতিশীল সরকার গঠন করা। এ কারণে সব বিধায়ককে ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানান হয়, সূত্রের খবর অনুযায়ী ডিএমকের একাংশ এমন একটি সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে যেখানে এআইএডিএমকে নেতা পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং বাইরে থেকে সমর্থন দেবে ডিএমকে। তবে দলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে জনরোষের আশঙ্কা করছে।
অন্যদিকে এআইএডিএমকেও আপাতত “অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ” নীতি নিয়েছে। দলের কিছু নেতা টিভিকের সঙ্গে জোটে আগ্রহী হলেও শীর্ষ নেতৃত্ব তা নাকচ করে দিয়েছে। পালানিস্বামী দলের বিধায়কদের শান্ত থাকার এবং আরও দু’দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্যপালের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সম্ভাব্য মিত্র দলগুলিও। সিপিআই বলেছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত এবং পরে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
ভিসিকে নেতা থল. থিরুমাভালাভান-ও বলেছেন, রাজ্যপাল শপথের আগেই ১১৮ জন সমর্থকের তালিকা দাবি করতে পারেন না।
চমকপ্রদভাবে, ডিএমকেও রাজ্যপালের সিদ্ধান্তকে “জনমতের অসম্মান” বলে আখ্যা দিয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান-ও বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
