অপরাধীদের বিচার ও বাহিনী সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র অসম্ভব : আখতার
জনগণের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র ধরেছিল তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন চরমে পৌঁছেছিল। গুম, খুন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব অপরাধের জড়িতদের বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র ফেরানো সম্ভব নয়।
আখতার হোসেন বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি। তবে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সময়ের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো দলের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনায় বসিনি।
এ সময় তিনি ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে তিনি জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন চরমে পৌঁছেছিল। গুম, খুন, এবং কথিত ‘আয়নাঘর’-এর মতো ঘটনাগুলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব অপরাধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট শাসক হতে পারতেন না।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, ‘গত এক যুগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের কারণে তাদের জবাবদিহি ও পেশাদারি হারিয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হতো, তাহলে গুম-খুনের মতো ঘটনা ঘটত না। তাই শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও সময়ের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জনগণের প্রত্যাশা এখন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠন। সেই লক্ষ্যে এনসিপি রাজনৈতিক সমঝোতা ও জনঅংশগ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা কাউকে শত্রু মনে করি না। যে যেখানেই থাকুক জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক হতে হবে। বাংলাদেশ আজ ঐক্যের রাজনীতি চায়, বিভাজনের নয়।’
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
