পাহাড়ে অপরাধিদের খামারবাড়ি, সিলেটে অপহৃত ৬ রাজমিস্ত্রি উদ্ধার
সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে গৃহনির্মাণের কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ সেই ছয়জন রাজমিস্ত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহৃতদের স্বজনরা টেকনাফ থানায় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। টেকনাফের পাচারকারিদের আস্তানা হাবিরছড়া নামক পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল বিকাল থেকে পুলিশী তৎপরতা শুরু হলে অপহরনকারিরা অপহৃতদের মধ্যে রশিদ আহমদ নামের একজনকে দিয়ে ০০৬২৮২১৭২৪৩৩২৫০ নম্বর থেকে মোবাইলে কল করে তাদের ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়।
মঙ্গলবার নিখোঁজ রশিদ আহমদ ০০৬২৮২১৭২৪৩৩২৫০ একই নম্বর থেকে কল করে নিখোঁজ এমাদ উদ্দিনের ভাই বাহার উদ্দিনকে বলেছেন, তারা এখন ইন্দোনেশিয়ার পথে সাগরে রয়েছেন। বাহার উদ্দিন বলেছেন, রশিদ আহমদ তাকে বলেছেন টেকনাফ থেকে তাদের ট্রলারে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন অপহৃতদের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তাদের (অপহৃত) উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থাও কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানবপাচারকারি ও সংঘবদ্ধ অপহরণকারি চক্র দলে দলে বিভক্ত হয়ে পুরো টেকনাফ সীমান্ত ও সাগর উপকুলীয় এলাকাজুড়ে লুকিয়ে রয়েছে।
টেকনাফের গহিন পাহাড়ে রয়েছে সংঘবদ্ধ পাচারকারিদের খামারবাড়িও। এসব খামারবাড়ি দেখতে মুরগির খামারের মতই। অনেকগুলোতে মুরগির লালন পালনও করা হয়। বাস্তবে এসব পাচারকারিদের ধরে আনা লোকজনদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। আবার এসব খামার বাড়ি মায়ানমার থেকে আনা ইয়াবার চালান রাখার ডিপোসহ অন্যান্য আপরাধমূলক কর্মকান্ডের ডেরা হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
টেকনাফের লেদার গহীন পাহাড়ে এরকমই একটি খামার বাড়ির ছবি সংবাদকর্মীদের হস্তগত হয়েছে। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার ইয়াবা ডন হিসাবে পরিচিত নুরুল হুদার পুত্র শাহ আজমের খামারটিতে সার্বক্ষনিক পাহারায় থাকে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা। পাহাড়ে ইয়াবা কারবারি, মানব পাচারকারি, অপহরণকারি এবং সশস্ত্র ডাকাতদলের এরকম খামারবাড়িসহ মাটির তৈরি গুদাম ঘরও রয়েছে।
