শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায় থেকে ড. ইউনূসকে অব্যাহতি

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রতিষ্ঠানটির তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ অভিযোগে শ্রম আদালতের দেওয়া ৬ মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিরুদ্ধে এ চারজনের আপিল মঞ্জুর করে বুধবার এ রায় দেন ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এম এ আউয়াল (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ)।

রায়ে বিচারক বলেন, দুই নম্বর বিবাদী (মামলার বাদী) ও অন্যান্য বিবাদীদের (মামলার বাদী) অনুপস্থিতিতে বিনা খরচায় আপিল মঞ্জুর করা হলো এবং চারজন আসামিকে অত্র মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রতিষ্ঠানটির চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ২০২১ সালে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

 

গত ১ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা এ মামলার রায় দেন। রায়ে ড. ইউনূসসহ চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের প্রত্যেককে শ্রম আইনের ৩০৩ ও ৩০৭ ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ডের সঙ্গে ৩০ জার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে সেদিন তাঁদের জেলে যেতে হয়নি। রায় ঘোষণার পর পরই জামিন আবেদন করা হলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে তাঁদের এক মাসের জামিন দেন বিচারক।
এ জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন তাঁরা। 

গত ২৮ জানুয়ারি ইউনূসসহ দণ্ডিতদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তাঁদের ৩ মার্চ পর‌্যন্ত জামিন দেন। সেই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দণ্ড স্থগিতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

এ আবেদনে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শুনানির পর রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। চূড়ান্ত শুনানির পর গত ১৮ মার্চ রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন উচ্চ আদালত। গত ৩ জুলাই ৫০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। 

রায়ে বলা হয়, ‘আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে দেওয়া কনভিকশন (দণ্ড) কার্যকর থাকবে। আপিল বিচারাধীন অবস্থায় কনভিকশন স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।

আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে কেবল এই কনভিকশন বাতিল, বহাল ও সংশোধন হতে পারে।’ 

এদিকে শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর গত ৩ মার্চ থেকে চারবার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। গত ৪ জুলাই জামিনের মেয়াদ ১৪ আগস্ট পর‌্যন্ত বাড়িয়েছিলেন আদালত। সেদিনই আপিল শুনানির কথা ছিল। কিন্তু গত ১ আগস্ট আপিল শুনানি এগিয়ে আনতে যৌথভাবে আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১৮(১১) ধারা অনুসারে শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্টও আপিলটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিনউত আপিল দায়েরের পর ৬০ দিন পেরিয়ে গেলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি। ফলে আপিল শুনানি এগিয়ে এনে দ্রুত শুনানির নির্ধারণ করা হোক। এ আবেদন গ্রহণ করে আজ বুধবার শুনানির জন্য রেখেছিলেন আদালত। সে ধারাবাহিকতায় শুনানির পর আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিলেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

আদালতে ড. ইউনূস ও তিন কর্মকর্তার পক্ষে আপিল শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। যদিও এতদিন এ মামলায় অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও সৈয়দ হায়দার আলী।

রায়ের পর ড. ইউনূসের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মামরাটি দায়েরের ক্ষেত্রে আইনি বিধান মানা হয়নি। পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য দিলেও শ্রম আদালত রায় আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং বেআনিভাবে সাজা দিয়েছিলেন। আপিল শুনানিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের আপিল মঞ্জুর করেছেন এবং অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’

আদালতে শুনানিতে উপস্থিতি ছিলেন মামলার এক বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। আদালত তাঁকে শুনানির জন্য ডাকলে তিনি বলেন, আমরা আইনের লঙ্ঘন পেয়েছিলাম বলে মামলা করেছিলাম।

আদালতের প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকার আমরা পাইনি।’

আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন, আপনি কি চান, আদালতের এমন প্রশ্নে তরিকুল ইসলাম বলেন, আপিন যে সিদ্ধান্ত দিবেন সে সিদ্ধান্ত আমি এবং আমরা মেনে নিবো।’ এরপর আদালত রায় দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য