খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে যা বললেন আইনমন্ত্রী

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

যে আইনের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের নির্বাহী আদেশ দেওয়া হয়েছে, সে আইনের ভিত্তিতে তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রবিবার (২৩ মে) ঢাকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারকদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি একথা বলেন।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস ছাড়াও হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। গত চার বছরে বেশ কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

 

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে যেতে হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। করোনাভাইরাস মহামারীর শুরুতে তার পরিবারের আবেদনে সরকার নির্বাহী আদেশে দুই শর্তে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। শর্ত দুটি হচ্ছে- খালেদা জিয়াকে নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪০১ ধারা অনুসারে দণ্ড স্থগিত করে এ আদেশ দেয় সরকার।

এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার বিদেশে নিতে খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে তার পরিবার। সেই আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হলে ‘সুযোগ নেই’ বলে আবেদনটি নাকচ করা হয়েছিল।
 

গত ২১ জুন রাতে খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এ অবস্থায় রবিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও তাকে বিদেশে নেওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন আইনমন্ত্রীকে।

আনিসুল হক বলেন, ‘যতটুকু জানি, আজকে (রবিবার) কিছুক্ষণ আগ থেকে খালেদা জিয়ার হার্টে পেসমেকার লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে কিডনির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ 

এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের (খালেদা জিয়ার পরিবার) কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কথা আসেনি। আমি সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিকভাবে দেখেছেন বলেই খালেদা জিয়া বাসায় থেকে ওনার (খালেদা) ইচ্ছেমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে উনার মুক্তির নির্বাহী আদেশটি একটা আইনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সেই আইনে তাকে এখন বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না।’

সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব সংক্রান্ত এক প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে প্রবেশের সময় সম্পদের হিসাব দাখিল করে থাকেন। পরে সময়ে–সময়ে তারা সেটা জমাও দেন। এ নিয়ে নতুন করে কোনো আইন করার প্রয়োজন নেই।’

তবে সব তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করার পর তা প্রকাশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামি চৌধুরী মাইনুদ্দীনকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের আদালতের দেওয়া রায়কে পক্ষপাতিত্ব রায় বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

এ বিভাগের অন্যান্য