বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি: এমিলিয়ানো মার্তিনেস
খেলাধুলা ডেস্ক ঃ
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল দলগুলোর একটি আর্জেন্টিনা। বিশ্বের নানা প্রান্তে তাদের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে। তবে ১০ হাজার মাইলেরও বেশি দূরের বাংলাদেশ যেন আর্জেন্টিনাকে নিজের দেশের দল হিসেবেই গ্রহণ করেছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশে আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি এবং ফুটবলকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায়, তা সত্যিই অনন্য।
বিশ্বকাপে কখনো অংশ নিতে না পারলেও বাংলাদেশ ফুটবলপ্রেমে ভরপুর একটি দেশ। আর্জেন্টিনার প্রতি এখানকার মানুষের ভালোবাসা বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা এক বিশেষ সম্পর্কের প্রতীক। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে হাজার হাজার সমর্থক একত্রিত হন, দলের প্রতিটি গোল নিজেদের দেশের গোলের মতো উদ্যাপন করেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশের এই ভালোবাসা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দেরও অজানা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিও ও সমর্থনের দৃশ্য তাদের নজরে এসেছে। ফলে দুই দেশের এই আবেগ যেন পারস্পরিক সম্পর্কেই পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যম দিবসে সেই ভালোবাসারই এক অনন্য উদাহরণ তুলে ধরেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সাক্ষাৎকার শেষ করে চলে যাওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, উপস্থিত একজন সাংবাদিক বাংলাদেশের। সঙ্গে সঙ্গে থেমে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার এক প্রতিবেদনে এমনটি প্রকাশ পায়।
আগেও বাংলাদেশ সফর করা মার্তিনেস জানান, তিনি বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসেন এবং সেখানকার মানুষের অকৃত্রিম সমর্থনকে ভীষণ মূল্য দেন।
বাংলাদেশের সমর্থকেরা আবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখতে চান—এ কথা শুনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আবেগ এতটাই গভীর যে তাদের দেখলে মনে হয়, তারা যেন নিজেরাও আর্জেন্টিনারই মানুষ।’ একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি নিজের আন্তরিক ভালোবাসাও প্রকাশ করেন এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।
বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার এই সম্পর্ক অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। লিওনেল মেসির জনপ্রিয়তা এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে, তবে এর সূচনা বহু দশক আগে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচেই দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ইতিহাসের বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। যে ইংল্যান্ড প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চল শাসন করেছিল, তাদের বিপক্ষে সেই জয় বাংলাদেশের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেয়। সেই স্মরণীয় ম্যাচই বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হয়ে আছে।
