যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই, এবার নজর বাস্তবায়নে
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান। চুক্তিটি সই হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উভয় দেশ।
চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাখোঁ বলেন, ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন। তার মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে।
ম্যাখোঁ আরো বলেন, এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইরানও চুক্তিতে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা এক কনফারেন্স কলে বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চুক্তি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছিল। সেই চাপের মুখেই চুক্তির বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দেন গত রবিবার। চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব জায়গায় চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। এ সময় জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১১০ দিন ধরে চলা সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর প্রথম হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে গড়ায়। এরপর টানা কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকে। নতুন এই সমঝোতার ফলে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
